সেবার নামে হয়রানি

অবৈধ ট্যুরিজম ব্যবসা: সেবার নামে হয়রানি ।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন অসংখ্য ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান। আর এসব ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের কারণে লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। আবার অবৈধ ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে নানা দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পর্যটকদের। অনেক সময় স্থানীয়রাও বাদ যায় না হয়রানির কবল থেকে। অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এসব ট্যুরিজম ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোন ও সৈকতের তীর ঘেষে অর্ধ শতাধিক ট্যুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেগুলোর অধিকাংশরই নেই কোন ট্রেড লাইসেন্স এভং ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (ট্যুয়াক) এর অনুমোদন। এসব ট্যুরিজম প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে কোন হোটেলের নিচে বা সামনে, শুটকি-আচারের দোকানে ও সৈকতের পাড়ে ঝুপড়ি দোকানে সামনে। এদের কোন স্থায়ী অফিসও নেই। অনেক সময় পর্যটক কিংবা স্থানীয়দের বুকিং নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। ফলে অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠানের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের।

ঢাকার উত্তরা থেকে কক্সবাজারে ভ্রমনে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, সৈকত এলাকার একটি আচারের দোকানদার তাকে ডেকে নিয়ে এক প্রকার জোর করেই সেন্টমার্টিন ভ্রমনের জন্য বুকিং করান। ওই ব্যক্তি আমাকে কম খরচে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টিকিট করান। এর পরদিন সেই দোকানে খোজঁ নিয়ে জানতে পারলাম ওই ব্যক্তি দোকানের কেউ না আর তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। এভাবে পর্যটকদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে অনুমোদিহীন এসব ট্যুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এর সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ অভিযোগ করেন, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অনুমতি ছাড়া সৈকতে ট্যুরিজম ব্যবসা করা বা অফিস করা অবৈধ কিন্তু অনেকে তা না মেনেই সমুদ্র সৈকত পাড়ে অফিস খুলে বসে দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ড্রিম আইল্যান্ড ট্যুরিজম, বিজয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম, ব্লুওয়েভ ট্যুরিজম, সি-বিচ ট্যুরিজমসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান টুয়াকের সদস্য না হয়েই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তাদের কোন ট্রেড লাইসেন্সও নেই বলে অভিযোগ করেন টুয়াকের সহসাধারণ সম্পাদক।

টুয়াকের সদস্য এখনো হয়নি স্বীকার করে ড্রিম আইল্যান্ড ট্যুরিজমের স্বত্ত্বাধিকারী রিয়াজুল ইসলাম জনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টুয়াকের সদস্য হওয়ার কথা বলেন। তবে তার প্রতিষ্ঠানের জন্য পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এর সাধারণ সম্পাদক আসাফ উদ দৌলা আশেক জানান, কক্সবাজারে প্রায় ৯০টিরও অধিক ট্যুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে যাচ্ছে যার মধ্যে ৬৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে ও তারা ট্যুয়াকের সদস্য। তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সত্যিকরের সেবা প্রদানকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন অনুমোদনহীন এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, পর্যটকরা আমাদের অতিথি। এদের হয়রানির শিকার হবে তা আমরা মেনে নেব না।

Print
651 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close