লতিফ সিদ্দিকীর জামিন

পবিত্র হজ নিয়ে কটূক্তি করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত সাতটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলার বিচার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে আদালত।
মামলা বাতিলের আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি মো. ফরিদ আহমদ শিবলীর ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এছাড়া এসব মামলা কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
তবে সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাইবান্ধায় আরো চারটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়না থাকায় তিনি এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যের্তিময় বড়ূয়া।
বড়ূয়া বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ঢাকার ৬টি ও নারায়ণগঞ্জের একটি মামলায় জামিন চেয়েছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছে।
গত বছর ২৯ সেপ্টেমম্বর নিউ ইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে কটূক্তি করেন তখনকার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশ ও দেশের বাইরে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনগুলো সাবেক এই মন্ত্রী বিচার দাবি করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর মহাজোট সরকার মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করে।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে ভারত হয়ে দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। ২৫ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন  তিনি। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তিনি নিম্ন আদালতে জামিন চাইলে তা না-মঞ্জুর করা হয়েছে। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারা মোতাবেক মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন লতিফ সিদ্দিকী।
আবেদনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধ নিজ দেশে বিচার করতে হলে মামলা দায়েরের আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংবিধানের ৩৫(২) ধারা অনুযায়ী একই অপরাধের ঘটনায় একাধিক মামলা চলতে পারে না। এই বিবেচনায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জামিন চাওয়া হয়।
আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যের্তিময় বড়ূয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির ও মামলা দায়েরকারী অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা জামিন শুনানির বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে।
Print
810 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close