এ সংবর্ধনা কেবল বাংলার মানুষের প্রাপ্য-প্রধানমন্ত্রী

আমাকে যে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে, এর প্রাপ্য কেবল আমার নয়, এর প্রাপ্য বাংলার মানুষের। তারা আমাকে বারবার সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ গড়ার জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় নাগরিক কমিটির দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের কালরাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মর্যাদা ধূলিস্মাৎ করে বাঙালিকে পরাজিত করতে চেয়েছিল তারা। আমি সেই মর্যাদা ফেরাতে দেশে ফিরে এসেছিলাম। আমার বাবা মন প্রাণ দিয়ে বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষকে ভালোবেসেছিলেন। দেশে ফিরে আমি তার দেখানো পথে মানুষের কল্যাণে ও দেশ গঠনে নেমে পড়ি।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ক‍াজ শুরু করি। এরপর ২০০৯ সালে আবারও সরকার গঠন করি। আবারও দেশের উন্নয়নে কাজ শুরু করি। তারপর দেশের মানুষ আবারও আমাকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাই এ সংবর্ধনা কেবল আমার প্রাপ্য নয়, এ সংবর্ধনা বাংলার মানুষের প্রাপ্য।

ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য শেখ হাসিনাকে এ সংবর্ধনা দিচ্ছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।

নাগরিক কমিটির সভাপতি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকরা অংশ নেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যে বৈদেশিক নীতি আমাদের শিখিয়েছেন ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- সেই নীতিতেই আমরা সরকার পরিচালনা করছি। তাই যখনই প্রতিবেশিদের সঙ্গে মিলিত হই, তখন আমরা বলি- আমাদের সবার একটিই শত্রু, দারিদ্র্য। এই দারিদ্র্য দূর করতে হবে। সেটা আমরা সম্মিলিতভাবে করবো। এই সম্মিলিত কাজের মানসিকতার সুফলে আমরা গঙ্গা চুক্তি করেছি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।

দেশ আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলে কটূক্তি করা হয়েছিল, এখন আমরা বলতে চাই, বটমলেস ‍বাস্কেট আর নেই, বাস্কেট এখন ভরপুর। বাঙালিরাও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

একসময় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ওই দুঃসময়ের পর দেশে কেবল দুর্নীতি আর সন্ত্রাস এসব ছিল। এসবে মুষ্ঠিমেয় কিছু লোক লাভবান হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা একটা কথাই চিন্তা করি, জাতির পিতার নেতৃত্বে যে দেশ ‍স্বাধীন করেছি, সে দেশের প্রতিটি মানুষ নিজের অধিকার ভোগ করবে। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা যে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি শাসন করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি। এক মুহূর্তের জন্য ভুলি না আমার পিতা এ দেশের মানুষকে ভালবেসেছেন। যে মাটির মানুষকে ভালবেসে আমার পিতা মৃত্যুবরণ করেছেন, কারাবরণ করেছেন, সে মাটির মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা দিতে হবে, ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সেবা দিতে হবে, জীবনকে মানসম্মত করতে হবে। সেভাবে আধুনিক শিক্ষা দিতে হবে। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, আত্মপরিচয় দিয়েছেন। তাদের বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিতে হবে।

বহুল প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসায় প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কেবল স্থল সীমান্ত চুক্তি নয়, এ ধরনের আরও অনেক সমঝোতা ও চুক্তি করে এই অঞ্চলকে উন্নত করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে হবে। এ কারণেই ২০২১ সালের ভিশন নেওয়া হয়েছে। ২০৪১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। সে সময় ক্ষুধার্ত জাতি হিসেবে নয়, উন্নত দেশ হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়াবো আমরা।

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়ে গেছে। এই বিচার শেষ করতে আমি দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আমরা সমুন্নত রাখতে পারি।

তিনি বলেন, কী অর্জন করেছি, সেটা বড় কথা নয়, এখনও অনেক দূর যেতে হবে আমাদের। আমি মৃত্যুর ভয় করি না। জন্মেছি যখন একদিন মরতেই হবে। আমি সব হারিয়ে ফেলেছি, আমার আর হারানোর কিছু নেই। যেদিন দেশে ফিরে এসেছিলাম, এই বাংলা মায়ের মানুষ আমাকে টেনে নিয়েছিলেন, আর আওয়ামী লীগের নেতারা পদেপদে সহযোগিতা করেছেন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যে কোনো বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাবে। স্বাধীনতার সুফল দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

Print
826 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close