ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংক ছিনতাইকারীদের আখড়া , ক্যাশ কাউন্টার থেকে গ্রাহকের টাকা লুট হলেও প্রতিকার নেই!

আতিকুর রহমান টুটুল, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
সোনালী ব্যাংকের ঝিনাইদহ প্রধান শাখাটি ছিনতাইকারীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। গার্ড এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সামনে ক্যাশ কাউন্টার থেকে একাধিকবার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও গ্রাহকরা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে ক্রমশঃ ক্ষোভ ধুমায়িত হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে গত রোববার ক্যাশিয়ারের সামনে থেকে ছিনতাইকারীরা জহুরা নামে এক মহিলা গ্রাহকের লাখ টাকা উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের আশাদুল ইসলামের স্ত্রী জহুরা খাতুন এক লাখ টাকা জমা দিতে গত রোববার সোনালী ব্যাংকে আসেন। ক্যাশ কাউন্টারে জমা দিয়ে তিনি প্রথমে ১০-১৫ মিনিট দাড়িয়ে থাকেন। তার টাকা জমা না নিয়ে ক্যাশিয়ার অন্য কাজে ব্যাস্ত থাকার ভান করেন। বার বার তাগিদ দেওয়া সত্বেও ক্যাশিয়ার টাকা জমা নেন নি। ওই মহিলা টাকা ক্যাশিয়ারের সামনে দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মহিলার পাশ থেকে গ্রাহক সেজে কয়েক জন ছিনতাইকারী তাকে বলে “আপা আপনার টাকা পড়ে গেছে” নিজের টাকা ভেবে জহুরা খাতুন টাকা তুলে নিয়ে আবার অপেক্ষা করতে থাকেন। এ ভাবে দশ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পরও ক্যাশিয়ার টাকা জমা না নিলে তিনি ক্যাশিয়ারকে টাকা নিতে তাগাদা দেন। এ সময় ক্যাশিয়ার ধমকের সুরে জহুরা খাতুনতে বলেন, ‘কিসের টাকা? কত টাকা?’ তিনি কোন টাকা সেখানে রাখেনি বা জমা দেননি বলে ক্যামিয়ার সাফ জানিয়ে দেন। এ কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন জহুরা খাতুন। নিজে টাকা জমা দিয়েছেন কিন্তু ক্যাশিয়ার বলছেন কোন টাকা জমা দেননি। জহুরা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি টাকা দেওয়ার পর অপেক্ষা করছি’। ‘টাকা জমা না দিয়ে ক্যাশিয়ার নানা তালবাহানা করে আমাকে দাড় করিয়ে রাখেন’। ‘ক্যাশ কাউন্টারের ভিতর থেকে টাকা কোথায় যাবে’? ‘ক্যাশিয়ার চোর চক্রের সাথে জড়িত’ বলে জহুরা খাতুন অভিযোগ করেন। তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানালেও এ পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাননি। ঝিনাইদহ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাগর বলেন, তাদের এক ড্রাইভারের স্ত্রী টাকা জমা দিতে এসে অস্ত্রধারী গার্ডের উপস্থিতিতে ব্যাংকের মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার পান নি। তিনি অভিযোগ করেন এর আগেও বহুবার গ্রাহকের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা আছে। তারপরও ব্যাংক প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা নিতে পারেনি। তিনি মনে করেন এ ঘটনার সাথে ব্যাংকের একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আব্দুল ওহাব বলেন, চোর চক্র পুর্বে থেকে তার পেছনে লেগে ছিল। যা আমরা সিসি টিভি ফুটেজে দেখতে পারছি। তার টাকা একবার গ্রহণ করা হয়েছিল কিন্তু এ্যামাউন্ট ঠিক মত লেখা না থাকায় আবার ফেরত দেওয়া হয়েছিল। সেটা ঠিকমত লেখার পর সে টাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একজন তার পাশ থেকে টাকা পড়ে গেছে এমন কথা বলে। জহুরা খাতুন টাকা উঠাতে গেলে সেই সুযোগে টাকা নিয়ে যায়। তবে তিনি প্রতিকারের কোন আশ্বাস গ্রাহকদের দিতে পারেন নি।

Print
3281 মোট পাঠক সংখ্যা 4 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close