ঝিনাইদহের বেশির ভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই

আতিকুর রহমান টুটুল, ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহের অধিকাংশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ। মাঠ না থাকায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের খেলা করানো হয় না। ফলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল সহ বিভিন্ন খেলা-ধুলায় পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার ৬ টি উপজেলায় ৮৯৭ টি সরকারী ও ৩৯ টি বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে বারইপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষুণদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দহোকোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ৫০ ভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোন খেলার মাঠ। কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্যও নেই তেমন জায়গা। এতে নিয়মিত খেলা সহ প্রাকটিস না করায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে প্রতিযোগীতা মুলক খেলা থেকে। মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদেরও খেলা করান না শিক্ষকরা। ফলে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানুষিক বিকাশের জন্য সরকার বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করলেও ব্যাহত হচ্ছে এর লক্ষ। এদিকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল খেলা বাবদ প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য দেওয়া হয় ৪ হাজার টাকা, যা নিতান্তই অপ্রতুল। এতে খেলার অর্ধেক খরচই মেটে না। শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ না থাকায় আমরা খেলা করতে পারি না। স্যার রাও আমাদের খেলা করায় না। এতে আমাদের অনেক খারাপ লাগে। শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফা খানম জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে নেই কোন খেলার মাঠ। মাঠ না থাকায় আমরা ছেলেমেয়েদের খেলা ধুলা করাতে পারি না। যার দরুন তারা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল খেলায় ভাল করতে পারছে না। আর এই খেলা বাবদ প্রতিটি ইউনিয়নে দেওয়া হয় ৪ হাজার টাকা, যা নিতান্তই অপ্রতুল। এই টাকায় খেলার অর্ধেক খরচও মেটে না। বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলার মওলানাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীনুর জাহান জানান, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানষিক বিকাশের জন্য খেলার বিকল্প নেই। খেলা, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়ায়। যে সব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না, তারা অন্যদের দেখে হিনমন্যতায় ভোগে। এতে তারা মানষিক ভাবে পিছিয়ে পড়ে। তাই যে সব বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই , সেই সব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে কর্তৃপক্ষ খেলার মাঠের ব্যবস্থা করবেন এটা আমার দাবি থাকবে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই, ভবিষ্যতে খেলার মাঠের ব্যবস্থার বিষয়ে কোন পরিকল্পনা আছে কিনা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল খেলায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন ভাল করতে পারছে না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উপর চড়াউ হয়ে তাদেরকে চেনেন না ও কথা বলতে বাধ্য নন বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এরপর তিনি তাড়াহুড়ো করে নিজ অফিস থেকে বেরিয়ে যান। তবে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, মাঠের অভাবে খেলা করাতে পারছি না শিক্ষকদের এই অজুহাত না দিয়ে যে কোন মুল্যে শিক্ষার্থীদের খেলা করাতে হবে। তাদের ভালভাবে খেলা করাতে পারলে যে কোন প্রতিযোগীতামুলক খেলায় তারা ভাল করতে পারবে। মানষিক দিক দিয়েও তারা অনেক এগিয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল খেলা বাবদ যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত না হলেও কম নয়। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল খেলা বর্তমান সরকারের একটা বড় উদ্দোগ, তাই এর বাজেটও আস্তে আস্তে বাড়ানো হবে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাঠের ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সকল সরকারী কর্মকর্তার আচরন সংযত হওয়া উচিত বলেন তিনি।

Print
840 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close