এমপি লিটন

অবশেষে এমপি লিটন ঢাকায় গ্রেপ্তার

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: শিশু সৌরভের দুই পায়ে গুলি বর্ষণকারী গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে তাকে ঢাকার উত্তরায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপি, এডিসি মিডিয়া জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানান, এমপি লিটনকে গ্রেপ্তারের পর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। গত ২ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নির্বাচনী এলাকায় শিশু সৌরভের দু’পায়ে তিনটি গুলি করেন এমপি লিটন। পরে শিশুটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ৩ অক্টোবর রাতে গুলিবিদ্ধ শিশু সৌরভের বাবা সাজু মিয়া বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় এমপির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই এমপি লিটন তার আত্মীয়ের মাধ্যমে লাইসেন্সকৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র সুন্দরগঞ্জ থানায় জমা দেন। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এমপি লিটন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। এরপর গত ১১ অক্টোবর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এমপির পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী এসএম আরিফুল ইসলাম।  হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন খারিজ করে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে কি না, সে বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে পুলিশ। পুলিশ যেন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, সেজন্য আপিল বিভাগে আবেদন জানানো হয়। বুধবার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানি করেন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিনা কারণে শিশুকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের মামলায় এমপি লিটনকে হাইকোর্টের দেয়া আত্মসমর্পণের আদেশ স্থগিত করা হয়। তখন পরিষ্কার হয়, যে লিটনকে গ্রেপ্তারে আর কোনো বাধা নেই।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। অপরদিকে লিটনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনায় শিশু সৌরভের দু’পায়ে তিনটি গুলি করেন এমপি লিটন। পরে শিশুটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।  এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জসহ সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। এ নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। তারা এমপি লিটনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। ওই ঘটনার পর তিনদিন ধরে এমপিকে বাড়িতে শুয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। এরপর তার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আত্মীয়ের মাধ্যমে থানায় পাঠিয়ে দেন। তিনদিন পর মামলা দায়েরের দিনও তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এরপরই তিনি উধাও হয়ে যান।

তারপর থেকেই লিটনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় তার বিলাসবহুল বাড়িটি এখন জনশূন্য। প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। বাড়ির উঠনে অলস পড়ে আছে তার সেই গাড়িটি। এদিকে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও দায়ের করা এক মামলায় এমপি লিটন আসামি।

Print
855 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close