আ’লীগের গঠনতন্ত্রে সংশোধন আসছে

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। ওই কাউন্সিলেই দলের গঠনতন্ত্রে সংশোধন ও সংযোজন আসছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার আইন হওয়ায় দলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ার নির্দেশনা গঠনতন্ত্রে সংযোজন করা হবে। সেই সঙ্গে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার বিধান করে স্থানীয় সরকার আইন (সংশোধন) পাশ হয়। এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া কী হবে, তা আগামী কাউন্সিলেই গঠনতন্ত্রে সংযোজন করবে আওয়ামী লীগ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী নীতিমালা, দলের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, ইশতেহার ইত্যাদি তৈরির সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দল একজন প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। তবে এ নির্বাচনে কারা প্রার্থী মনোয়ন দেবেন, তার একটা রূপরেখা তৈরি করা হবে। এজন্য দলে যারা নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা এলে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হবে। এদিকে মন্ত্রিসভায় এ আইন পাশ হওয়ায় আগামীতে স্থানীয় সরকার স্তরের সব নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নে। সূত্র জানায়, ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদীয় বোর্ডের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য বোর্ড গঠন করে দেওয়া হবে। এজন্য দলের গঠনতন্ত্রে সংশোধন আনা হবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দলের যে সংসদীয় বোর্ড রয়েছে, তা দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে বা পৌরসভায় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কাজ করা সম্ভব না। এর জন্য আলাদা ফোরাম বা বোর্ড থাকতে হবে। তবে কোন পর্যায়ের জন্য কোন বোর্ড কাজ করবে সেটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। এ বোর্ডে কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের নেতারা থাকতে পারেন। অথবা স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে জেলা বা বিভাগভিত্তিক বোর্ড গঠন করা হতে পারে। এ বোর্ডে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে রাখা হতে পারে। এজন্য দলের গঠনতন্ত্রে এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংযোজন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন গনমাধ্যমকে বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার বিষয়টি সাংঘর্ষিক না। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দলের সংসদীয় বোর্ড আছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের জন্যও বোর্ড হবে। কী ধরণের বোর্ড হবে, নির্বাচন কমিশন সংশোধিত নির্বাচনি আইন তৈরির পর দল সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে এর রূপরেখা তৈরি করা হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় কাউন্সিলে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের (কেন্দ্রীয় কমিটি) সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। আগামী দিনের জন্য দলের দক্ষ নেতৃত্ব বের করে আনতে তরুণদের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিয়ে আসার কথা চিন্তা করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করতে দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে বলে তারা মনে করছেন।

এজন্য দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হলে দলের গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনতে হবে। বর্তমানে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সংখ্যা ৭৩। এ সংখ্যা বাড়িয়ে ১০১ করা হতে পারে। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন থেকে বের হওয়ায় তরুণ নেতাদের নিয়ে আসা হবে। এছাড়া দেশে নতুন তিনটি বিভাগ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহ বিভাগ হয়েছে। ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ করার প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত। এ তিনটি বিভাগে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থাকবেন। ফলে সাংগঠনিক সম্পদকের সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ১০ জন হবে। অন্য যে সব পদের সংখ্যা বাড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছে- সভাপতিম-লী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য।

Print
1340 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close