শরণার্থীদের নতুন বিপদ শীত

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: ভালো জীবনের প্রত্যাশায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম বলকান সাগর হয়ে ইউরোপের দিকে ধাবিত হচ্ছে শরণার্থীদের দল। বৈরি আবহাওয়া, পুলিশের ব্যারিকেড এমনকি ধারালো কাঁটাতারও শরণার্থীদের স্রোত বন্ধ করতে পারছে না। শীত এখন পুরোপুরি না আসলেও, প্রাথমিক ধাক্কা সহ্য করেও শরণার্থীদের দল সাগর পাড়ি দিচ্ছে। তবে অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ ওই সময়টায় বাতাসে ছুরি চালায় সূক্ষ্ণ জলীয় কনা, পাশাপাশি শীতের হাড়কাপুনিতো আছেই।

একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গত কয়েকমাস ধরে শরণার্থীদের মধ্যে যারা নিতান্তই অসহায়, তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছে। সীমান্ত অতিক্রম করে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের ব্যাপারে এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যবেক্ষনই মূলত এই সংস্থাটির কাজ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, অর্থাৎ গত শুক্রবার ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে সকল প্রকার সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে হাঙ্গোরি। শরণার্থী সংস্থা এবং দাতব্য সংস্থাগুলোর মতে, শীতের মধ্যেও যদি শরণার্থীদের সাগর পাড়ি দেয়ার হার একই থাকে, তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ স্রেফ ঠাণ্ডায় জমেই মারা যেতে পারে।

সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তবর্তী একটি হাসপাতালের চিকিৎসক হলেন উরুস জোভানোভিচ। তার ভাষ্য মতে, ‘এখন পর্যন্ত বিষয়টা ঠিক আছে। কিন্তু আগামী বিশ দিনের মধ্যে এই অঞ্চল সত্যিই খুব শীতল হয়ে যাবে।’ বাস্তবতার কারণেই শরণার্থীরা কোনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বেশিদিন অবস্থান নিতে পারে না নিরাপত্তার কারণে। যে কারণে, যতই প্রতিকূল পরিস্থিতি হোক না কেন, তীব্র ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে ইউরোপের দিকেই আসতে হবে তাদের।

দামেস্কের সাবেক দর্জি ৩৫ বছর বয়সী আলী লোলো অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান, ‘আমি এবং সকলেই প্রচণ্ড ভীত। আমরা চিন্তিত এই জন্য যে, তারা সীমান্ত বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু আমরা আগামী শীতের জন্যও বেশ চিন্তিত। তুষারপাতের আগেই আমাদের প্রত্যেককে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরীয়রা এখন আর সাবেক লিবিয়া হয়ে ইতালি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা না করলেও তারা আরও ভয়ংকর রাস্তা খুঁজে নিয়েছে বাঁচার স্বার্থে। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রকল্পের আঞ্চলিক মুখপাত্র মেত্তে পিটারসন বলেন, ‘আসন্ন শীতের কারণে অনেক শরণার্থীই ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।’

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়া এবং জার্মানি এখনও নিয়মতান্ত্রিক হারেই শরণার্থীদের গ্রহন করছে। যদিও হাঙ্গেরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তার দেশে থাকা শরণার্থীদের তারা ট্রেনযোগে সরাসরি অস্ট্রিয়া পৌছে দেবে। হাঙ্গেরি তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার পর কমপক্ষে ৩৩০০ জন শরণার্থী স্লোভানিয়াতে আশ্রয় নিয়েছে।

Print
1124 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close