আজ প্রতিমা বিসর্জন

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: আজ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হবে হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা। দেবী দূর্গা কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন। ভক্তদের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ের অশ্রু পেছনে ফেলে যাবেন দূর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গা । আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর পলাশীর মোড়ে জড়ো করা হবে সব মূর্তি। সেখান থেকে সদর ঘাট নিয়ে বিসর্জন দেয়া হবে প্রতিমাকে। গতকাল বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনের’ মধ্য দিয়ে দূর্গাপূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি ঘটেছে। সকালে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা যায়, দেবী দূর্গার চরণে ভক্তদেরকে শেষ মুহূর্তের প্রার্থনা। মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে পুষ্পাঞ্জলি আর ভোগ দেন তারা।

শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে দেবী দর্শন চলে দিনভর। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দূর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচদিন চলে দূর্গোৎসব। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতায় আমরা সকালে ষোড়শ প্রচার পূজা করেছি। মায়ের হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে তার আরাধনা করেছি। সবশেষে দর্পণ বিসর্জনের সময় মায়ের সামনে একটি আয়না রেখেছি। তাতে দেবী মাকে দেখে তার কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বিদায় নিয়েছি। এখন মা আবাসস্থল কৈলাস ফিরে যাবেন।

মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজ এলাকার মণ্ডপে পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বিনিময়: বাংলাদেশে কোন উৎসব ও পার্বণ কখনও ধর্মের গণ্ডিত আবদ্ধ থাকেনি মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ধর্ম যার যার হলেও উৎসব সবার। গতকাল শারদীয় দূর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পূজার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দূর্গাপূজা কিংবা অন্যান্য পার্বণ বাংলার শাশ্বত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গভীর থেকে উৎসারিত, তাই এসব উৎসব কখনও ধর্মের গণ্ডিত আবদ্ধ থাকেনি। ধর্ম সম্প্রদায়ের, কিন্তু উৎসব সার্বজনীন। ঐক্যবোধ আর ধর্মনিরপেক্ষতা এ দেশের মানুষের ধর্ম।

Print
621 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close