বিসর্জনে দেবীকে বিদায়

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: ঢাকের বাদ্য আর সিঁদুর খেলা শেষে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ‘কৈলাসে দেবালয়ে’ ফিরলেন ‘দুর্গতিনাশিনী দেবী’, সাঙ্গ হল বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের। দশ দিন আগে মণ্ডপে মণ্ডপে মহালয়ায় এ উৎসবের সূচনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনের’ মধ্য দিয়ে ঘটে দুর্গা পূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি। আর একদিন পর গতকাল শুক্রবার হল প্রতিমা বিসর্জন। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামীর ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন ‘পিতৃগৃহ’ এই ধরণীতে। হিন্দু পঞ্জিকা মতে,দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন, গেলেন দোলায় (পালকি) চড়ে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের পূজামণ্ডপগুলোর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় শহরের কেন্দ্রস্থলে লালদিঘিতে। এবার শহরে মোট ৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়। এর মধ্যে ৩৫টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে লালদিঘিতে। নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে ভৈরব নদে। অন্য মণ্ডপগুলোর প্রতিমা এবছর বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর দাস রতন। সন্ধ্যা থেকে ট্রাক, পিকআপে প্রতিমা নিয়ে বাদ্যযন্ত্রসহকারে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা একের পর এক আসতে থাকেন লালদিঘির পাড়ে। সুশৃঙ্খল ও ঝামেলামুক্ত পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পুলিশ প্রশাসন লালদিঘি এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। লালদিঘিকে ঘিরে আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লালদিঘিপাড়ে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা নজর রাখেন চারিদিকে। সন্ধ্যার পর প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টচার্য্য,জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার,যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি,কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা,সাবেক পৌর মেয়র কামরুজ্জামান চুন্নু,পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিম কুন্ডু,সাধারণ সম্পাদক দিপংকর দাস রতন,জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী তন্দ্রা ভট্টাচায্য প্রমূখ । লালদিঘিতে নিয়ে আসার পর ভক্তকূল শেষবারের মতো ধুপধুনো নিয়ে আরতিতে মেতে ওঠে। শেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্যদিয়ে দেবীকে নৌকায় তুলে বিসর্জন দেওয়া হয়।

Print
841 মোট পাঠক সংখ্যা 5 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close