যশোরে স্থাপিত হচ্ছে খুলনা বিভাগের সবচে বড় মসজিদ

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোরে স্থাপিত হচ্ছে খুলনা বিভাগের সবচে’ বড় মসজিদ। যশোর শহরের প্রধান কবরস্থান কারবালায় একটি একতলাবিশিষ্ট জামে মসজিদ রয়েছে। ওই মসজিদ সংলগ্ন এলাকাজুড়ে নতুন মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান মসজিদটি অক্ষত রেখে নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন মসজিদটির একতলা নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

শুক্রবার বাদজুমা শহরের কারবালায় খুলনা বিভাগের সবচে’ বড় মসজিদটির ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর। এ সময় উপস্থিতছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও কারবালা ওয়াকফ এস্টেটের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা রাজু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মসজিদটি প্রাথমিকভাবে ছয়তলাবিশিষ্ট হবে। থাকবে বেজমেন্ট। সেখানে পার্কিং করা যাবে পাঁচ শতাধিক গাড়ি। গোটা মসজিদ হবে কেন্দ্রীয় ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদে থাকবে দুটি লিফট। একযোগে নামাজ আদায় করতে পারবেন ১৭ হাজার মুসল্লি। মসজিদটির প্রাথমিক নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা।

বাদজুমা কারবালায় নির্মিতব্য মসজিদের ভিত্তিফলক স্থাপন করার সময় যশোর জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় একটি করে কেন্দ্রীয় মসজিদ হবে। যশোরের কেন্দ্রীয় মসজিদটি কারবালায় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মসজিদ নির্মাণের সব টাকা সংগ্রহ করা হবে স্থানীয় ও প্রবাসী দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত যে পরিকল্পনা আছে, তাতে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এটি হবে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় মসজিদ। মসজিদটি জেলা প্রশাসনের তদারকিতে কারবালা পীর নূর বোরহান শাহ নূরানী ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হবে। মসজিদ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্মাণ কমিটির অন্যতম সদস্য প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন জানান, ঢাকার একটি ফার্ম নির্মিতব্য মসজিদের ডিজাইন করেছে। ইসলামি স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী ডিজাইনটি করা হয়েছে মসজিদটির। এটি নয়নাভিরাম হবে বলে সবাই আশা করছেন। মসজিদ-সংলগ্ন স্থানে ফোয়ারা ছাড়াও থাকবে ফুলবাগান।’

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে মসজিদ নির্মাণকাজে বিত্তবান থেকে শুরু করে সমাজের সবার যার যতটুকু সামর্থ আছে, তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন, মসজিদটি ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ করা সম্ভব হলে এর স্থাপত্যশৈলী দেখে মুগ্ধ হবে দেশ-বিদেশের মানুষ। প্রসঙ্গত, যশোরের প্রধান গোরস্থান শহরের পশ্চিম প্রান্তে কারবালায় অবস্থিত। কারবালাকে ঘিরে এই শহরের মানুষের মধ্যে রয়েছে তীর্ব আবেগ। কারণ, প্রায় প্রত্যেক পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য এই গোরস্থানে শায়িত আছেন।

এই গোরস্থানেই রয়েছে হযরত বোরহান শাহের (র.) মাজার, যিনি বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত খানজাহান আলীর (র.) সঙ্গে সুন্দরবনের দিকে আসার পথে যশোরে থেকে যান। বহু মানুষ এখনও বোরহান শাহর মাজার জিয়ারত করেন নিয়মিত। বিশেষ করে শবে বরাত, শবে কদর, আশুরার রাতে এই মাজার ও গোরস্থানে মানুষের ঢল নামে।

Print
1613 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close