প্রতীকি

অর্ধকোটি টাকার সহযোগিতা পেয়েছেন রাজনের বাবা

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেটে দুর্বৃত্তদের নির্মম নির্যাতনে নিহত শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান আলম এখন প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক। গত ৮ জুলাই রাজনের নির্মম মৃত্যুর পর দেশ-বিদেশের হৃদয়বান ব্যক্তিরা পরিবারটির প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। এদিকে, এ মাসেই রাজন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ।

গত ৮ জুলাই ভোরে ‘চোর’ সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের শিশু রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমের সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রাজন হত্যার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নানাভাবে তার পরিবারকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। সব মিলিয়ে অনুদানের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকারও বেশি হবে বলে ধারণা এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৫০ হাজার টাকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক লাখ টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এক লাখ টাকা, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, রোটারি ক্লাব অব হিলটাউন, সিলেট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি এবং স্বপ্নঘুঁড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও করা হয় সহযোগিতা। আরও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নাম প্রকাশ না করার শর্তে সহযোগিতা করেছেন রাজনের বাবাকে।

যুক্তরাজ্যস্থ মদীনাতুল খায়েরি আল ইসলামীর চেয়ারম্যান মাওলানা ফয়েজ আহমদ ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজনের বাবাকে নতুন একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ক্যাপ (কমিউনিটি অ্যাগেইনস্ট প্রভার্টি) ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাজনের পরিবারকে দেওয়া হয়েছে একটি সিএনজি অটোরিকশা। আমেরিকা প্রবাসী আরেক ব্যক্তি ঘটনার পর পরই রাজনের বাড়িতে নির্মাণ করে দিয়েছেন নতুন একটি টিউবওয়েল। আরও কয়েকজন আমেরিকা প্রবাসী রাজনের ভাই সাজনের পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেওয়ার জন্য চার লাখ টাকার একটি শিক্ষাবন্ড করে দিয়েছেন। এছাড়া সিলেট জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর গঠন করে দেওয়ার কথা রয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনের ভাই সাজনের পড়ালেখার খরচ আজীবন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।

রাজনের বাবা জানান, রাজন হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর্যন্ত অনেকেই তাকে সহযোগিতা করেছেন। তবে দানের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকা হবে না বলে তার দাবি। তিনি বলেন, অনুদান পাওয়া বেশির ভাগ অর্থই খরচ হয়ে গেছে। মামলার খরচ, পারিবারিক খরচ ও মেহমানদারিতে এ অর্থ খরচ হয়েছে। তবে সাজনের নামে ব্যাংকে কিছু টাকা এফডিআর করা আছে বলে স্বীকার করেন তিনি। মিডিয়াকর্মীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আলম জানান, মিডিয়ার সহযোগিতার কারণেই তার ছেলের দ্রুত বিচার সম্ভব হচ্ছে।

Print
533 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close