প্রতীকি

রাজন হত্যা: আদালতে ৩ আসামির সাফাই

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় তিন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন। রোববার সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে মামলার প্রধান আসামি কামরুলের ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ধারণকারী নুর আহমদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন আদালতে। এর আগে রাজনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

দুপুর ১২টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মামলার সপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন বলে জানান ওই আদালতের পিপি মফুর আলী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে। তাদের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।

পিপি মফুর আলী বলেন, মুহিত আলম, আলী হায়দার ও নুর আহমদ নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। “এছাড়া নুর আহমদ আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন।” গত ১ অক্টোবর এ মামলায় সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৬ জন সাক্ষ্য দেন আদালতে। মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামের আইনজীবীর আবেদনে ১১ সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি শোনে আদালত। গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ১৬ অগাস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার। গত ২২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এই হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। রাজন হত্যার পর ১০ জুলাই সৌদি আরব পালিয়ে যান রাজনকে নির্যাতনকারী কামরুল। গত ১৫ অক্টোবর তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কামরুলকে নিয়ে এই মামলার আসামিদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক রয়েছেন কামরুলের আরেক ভাইসহ দুজন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।

Print
1147 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close