বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী আজ

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী আজ বুধবার। দিবসটি উপলে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান পাঠাগার চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের প থেকে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশাফুর রহমান। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোর্দ খালিশপুর (বর্তমানে হামিদনগর) গ্রামে ১৯৪৫ সালে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এ মহান সৈনিক।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে খোর্দ খালিশপুরের আক্কাস আলী মন্ডল ও কায়দাসুন নেছার গর্বিত সন্তান, প্রিয় জন্মভূমির বুকে স্বাধীন পতাকা ওড়াতে, দেশের জন্য লড়াই করতে মায়ের দোয়া নিয়ে তরুণ হামিদুর রহমান যোগ দেন মুক্তিবাহিনীতে। তিনি ছিলেন প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য।

মুক্তযুদ্ধ চলাকালীন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্ত ছিল পাকবাহিনীর শক্ত ঘাঁটি। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোরে লে. কাইয়ুমের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর একটি দল চারদিকে চা বাগানবেষ্টিত মাঝখানে ধলই সীমান্ত চৌকিতে পাক হানাদারদের উপর চালায় সাঁড়াশি আক্রমণ। হামিদুর রহমানসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক গুলিবর্ষণে পাকসেনাদের ক্যাম্পে আগুন ধরে যায়। পরে লে. কাইয়ুমের নির্দেশে সৈনিক হামিদুর রহমান বিপ্তি গোলাগুলির মধ্যে চা বাগানের ভেতর দিয়ে শত্রু ঘাঁটির মধ্যে ঢুকে পড়েন। ওই সময় শত্রু সেনার একটি বুলেট হামিদুর রহমানের কপালে বিদ্ধ হয়। কিছুণ পরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তাকে সমাহিত করেন ভারতের আমপাশায়।

স্বাধীন দেশের মুক্তবাতাসে লালসবুজের পতাকা ওড়ার ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর দেশের মাটিতে আনা হয় বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল ২০০৭ সালের ২১ মার্চ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্মভূমি খোর্দ খালিশপুর গ্রামকে ‘হামিদনগর’ হিসাবে ঘোষণা করেন। পরে ২০১০ সালের নভেম্বরে মহেশপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল আজম খান চঞ্চল মহেশপুরের একটি সড়কের নাম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নামকরণ করেন।

Print
888 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close