যশোর নার্সিং ইনস্টিটিটিউটে নির্মাণকাজে পুকুর চুরির অভিযোগ

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউটের সংস্কার ও নির্মাণকাজে পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজটি যাদের বুঝে নেওয়ার কথা, তারাই ‘নগদ নারায়ণে’ তুষ্ট হয়ে চোখ বন্ধ রেখেছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত নার্সিং ইনস্টিটিউটের সীমানা প্রাচীর, পেছনের খালি জায়গায় একটি ডায়নিং ও স্টোর রুম নির্মাণ, চতুর্থ তলায় চারটি নতুন রুম, বাথরুম মেরামত, শ্রেণিক ও ছাত্রীনিবাসের কে টালি বসানোর কাজ শুরু হয় চলতি মাসের শুরুতে। এক কোটি ৬২ লাখ টাকার এই কাজটি খাতা-কলমে বরিশালের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও তাদের কাছ থেকে ‘কাজ কিনে নিয়েছেন’ যশোরের ‘মেসার্স নূর হোসেন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই কাজে অর্থ যোগান দিচ্ছে কানাডিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স ট্রেড অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (ডিএফটিডি) এবং হিউম্যান রিসোর্স ফর হেলথ (এইচআরএইচ)।

নার্সিং ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, অনিয়মের মাধ্যমেই কাজটি শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সিডিউলে বর্ণিত শর্তাদি পালনের ধারে-কাছেও যাচ্ছে না তারা। এই অভিযোগকারীরা কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি সঙ্গত কারণে। তাদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউটের প্রধান সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্প নির্মাণকাজে সীমাহীন অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্পকে ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এক নম্বর ইটের বদলে গাঁথনির কাজে ব্যবহার করছে তিন নম্বর ইট। খুঁজে খুঁজে ঝিকরগাছার একটি ভাটা থেকে সর্বনিম্নমানের ইট যোগাড় করা হয়েছে। মোটা বালির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সূক্ষ্ম দানার কম দামি বালি। বিম ঢালাইয়ে ১৮ মিমি রড ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ১৬ মিমি রড। মেঝেতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাজারের সর্বনিম্ন মান ও দামের সিরামিক টাইলস। ভিতের কাজে বালি ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। মেঝে নির্মাণে রড-ঢালাইয়ের পরিবর্তে সিমেন্ট দিয়ে যেনতেন প্রকারে কাজ সারা হয়েছে।

নির্মাণকাজ দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, ভাটায় এখন এক নম্বর ইট মিলছে না। অথচ ছয় মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণে যে ইট পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
সাইট ইঞ্জিনিয়ার মামুন হোসেন বলেন, ‘আমি শুধু কাজের দেখভাল করছি।’কাজের দেখভাল মানে অনিয়ম পাহারা দেওয়া কি না তা অবশ্য পরিষ্কার করেননি তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব নার্সিং ইনস্টিটিউট-প্রধান সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্পর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে বলেন, ‘সংস্কার ও নির্মাণকাজের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’পুষ্প জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সেবা পরিদপ্তর থেকে একটি চিঠি এসেছে; যা অফিস সহকারী আব্দুল কাদেরের কাছে রতি আছে। তার কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিতে পরামর্শ দেন পুষ্প। অফিস সহকারী আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম নেই। এগুলো গণমাধ্যমের জানার বিষয় নয়। কাজ ঠিকঠাক চলছে।’প্রসঙ্গত, সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্পর বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির বহু অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার ছাত্রীবিােভও হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত হয়, কিন্তু কিছুই প্রমাণ হয় না। সীমাহীন যোগ্যতার অধিকারিণী পুষ্প অত্যন্ত দতার সঙ্গে সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করতে পারদর্শী।

Print
838 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close