পরীক্ষা শেষে বাবার জানাযায় রিদাদ, দাফন সম্পন্ন

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: জেএসসি পরীক্ষা আজ থেকে শুরু হয়েছে। আগের রাতে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেললো বাবাকে। এর চেয়ে শোকের কি হতে পারে? বাসায় বাবার (দীপন) রক্তাক্ত লাশ। পাশের এক রুমে পড়তে বসে রিদাদ। কিন্তু মনতো মানছে না। কয়েকবার বেরিয়ে এসে ড্রয়িং রুম ধরে শোকার্ত চোখে তাকিয়ে থেকে নীরবে ফিরে যেতে দেখা যায় তাকে।

শোকার্ত হৃদয় নিয়ে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রিদাদ। পরীক্ষা শেষে দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে চলে আসে সে। জানাযার আগে বাবার লাশের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জন্য ও তার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চায়। পরে জানাযা শেষে সবার সঙ্গে বাবার লাশ নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে যায়।

শোকে নিস্তব্ধ দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া। মুখে কোন শব্দ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক কোয়ার্টারে থাকেন তিনি। নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। কোনো কথা বলছেন না। দীপনের একমাত্র মেয়ে রিদম ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তার চোখ বেয়ে শুধু পানি পড়ছে। তাদের পরিবারে এভাবে আকস্মিক শোকের ছায়া নেমে আসবে কেউ ভাবতেও পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিলুফার নাহার বলেন, ব্লগার অভিজিতের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নামের জনপ্রিয় বইটির প্রকাশ দীপনের অকাল মৃত্যু ডেকে আনে। শিশু রিদাদ ও রিদমকে হতে হলো বাবা হারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা আমাদের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গিবাদকে প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তিনি দীপনের পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

দীপনের বন্ধু উৎস প্রকাশনীর কর্ণধর মোস্তফা সেলিম বলেন, ‘দীপনের এমন চলে যাওয়া আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি তাকে এক সেকেন্ডের জন্যও ভুলতে পারছি না। কি অপরাধ ছিল তার।’দীপনকে হারিয়ে অশ্রুশিক্ত হয়েছে দেশের লাখো মানুষ। তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বিশিষ্ট কলামিস্ট ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক। অধিক শোকে তিনি বলেই দিলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না, আমি চাই শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটুকুই আমার কামনা।’

Print
726 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close