খালেদা গুপ্তহত্যায় নেমেছেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: ক্ষমতা হারিয়ে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে বিদেশে বসে খালেদা জিয়া এখন দেশে গুপ্তহত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি বিদেশি, লেখক, প্রকাশক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গুপ্তহত্যা চালাচ্ছেন। ষড়যন্ত্রকারারী গুপ্তহত্যা ও খুন করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দাবায়ে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরে বলেন, ‘মানুষের মনে যখন একটু শান্তি আসে; অশান্তি শুরু হয়ে এক জনের মনে। মানুষের শান্তি তিনি দেখতে পারেন না। মানুষের শান্তি দেখলে, মানুষের উন্নতি দেখলে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া দেখলেই অশান্তি শুরু হয় তার মনে।’

‘আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার বীভৎস ঘটার ঘটনা সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘটিয়েছিল। এরপর ঘটাল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী।’ ‘যখন বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার এই মানুষ খুন করার রাজনীতি প্রতিহত করল, তখন তিনি অবরোধ দিলেন। তিনি অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা এখনো দেন নাই। কিন্তু মানুষ তাতে সাড়া দেয় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ হত্যা করে যখন পারল না। তখন নিজেই নাকে খত দিয়ে ঘর থেকে বের হল। মামলায় কোর্টে হাজিরা দিয়ে নিজের ঘরে ফিরে গেল।’‘রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে এরপর তিনি এখন গেছেন বিদেশে। বিদেশে গিয়ে ষড়যন্ত্র কী? এদেশে বিদেশিদের হত্যা করতে হবে। তাহলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এখন তিনি এদেশে গুপ্তহত্যায় নেমেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, প্রকাশক, লেখক এবং বিদেশি সবার ওপর গুপ্তহত্যা চালাতে হবে।’ ইতিপূর্বে এসব ঘটনায় যারা ধরা পড়েছে, ছাত্রজীবনে তারা ছাত্রদল বা শিবিরের সঙ্গেও জড়িত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের মানুষকে নিয়ে বারবার ষড়যন্ত্রের খেলা হয়েছে। কোনো কোনো মহল প্রচার চালাচ্ছে, এদেশে আইএস আছে; সন্ত্রাস আছে। অথচ এদেশে সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল বিএনপি-জামায়াত মিলে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কঠোর হস্তে সেই সন্ত্রাস দমন করেছে।’‘এখন খালেদা জিয়া আবারো সেই খুনের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে। যখন আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি। বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। এই খুনিদের রক্ষা করার জন্য। তার জন্যই এই গুপ্তহত্যা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যারা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত, তাদের কে পুরস্কৃত করেছিল। জিয়াউর রহমান তাদের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিল। পরে খালেদা জিয়া তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই বাংলাদেশ। জাতির পিতা এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে একটি কথা বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। এই একটা কথা আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি, গুপ্তহত্যা-খুন যাই করুক না কেন, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা দিতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

‘যারা বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চাচ্ছেন, তাদেরকে সাবধান করে দিতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনচেতা। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে তারা মাথা নত করে না।’ ‘আর এই গুপ্তহত্যা যারা করেছে, তাদের কিছু ইতিমধ্যে খুঁজে বের করা হয়েছে। বাকিগুলোকেও বের করা হবে। সেই সঙ্গে তাদের লিংকটা কোথায়? এদের মুরব্বি কোথায়? এদের বড় ভাই কোথায়? তাদেরকে খুজে বের করে এই বাংলাদেশের মাটিতে শাস্তি দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো সময় এসেছে- যারা শান্তি চান, উন্নতি চান, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী; এই খুনিদের বের করতে আপনারা সহযোগিতা করুন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামসহ দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা।
সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

Print
486 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close