দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন: অধ্যাদেশ জারি

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচনের বিধান সম্বলিত অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে সরকার। সোমবার ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা)(সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৫’ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন।
আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনের আগে আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা কার্যকরে অধ্যাদেশের অপেক্ষায় ছিল নির্বাচন কমিশন।

এরপর ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অধ্যাদেশটি হাতে পাওয়ার পর আমরা বিধিমালা প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্য সব কাজ দ্রুত সারব, যাতে মধ্য নভেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে পারি।”
আইন সংশোধনের ফলে এখন পৌরসভা নির্বাচনেও একটি দলের একজন প্রার্থী থাকবেন। নৌকা, ধানের শীষ, লাঙলের মতো প্রতীকগুলো ব্যবহার হবে এই নির্বাচনেও। দলের সমর্থনের বাইরে কেউ প্রার্থী হতে চাইলে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে।

এতদিন ধরে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও দলীয় আবহ থেকে মুক্ত ছিল না। এই রাখঢাক না রাখতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে করার বিপক্ষে বিএনপির অবস্থান রয়েছে। কয়েকটি নাগরিক সংগঠনও আপত্তি জানিয়ে বলছে, এটা হলে নির্দলীয় প্রার্থীরা ভোটে আসতে উৎসাহ হারাবে, কারণ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর (সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে করতে গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় প্রতিটি আইন সংশোধনের আলাদা প্রস্তাব অনুমোদন করে।

পৌরসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধিত আইন কার্যকর করা হবে বলে তখন জানানো হয়েছিল। অন্য আইনগুলো সংসদে পাস করানো হবে। ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন-২০১৫’ পরে সংসদে পাস করা হবে।

ডিসেম্বরে পৌরসভা এবং জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে আসছিল ইসি। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলে অল্প সময়ে সব কাজ সারাটাকেও চ্যালেঞ্জ মনে করছিলেন নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য নতুন করে বিধিমালা তৈরির কাজ কিছুটা এগিয়ে রাখলেও অধ্যাদেশ না পাওয়ায় তা চূড়ান্ত করতে পারছিল না ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ রোববারই বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পৌর নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় কয়েকদিনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি না হলে আগের মতো ভোট না করার কোনো বিকল্প তাদের কাছে থাকবে না।

তবে সেইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “যেহেতু জেনেছি সরকার অধ্যাদেশ করবে, সেজন্য বিধিমালা সংক্রান্ত কিছু কাজ এগিয়ে রেখেছি আমরা। যাতে অধ্যাদেশ হাতে পেলেই কুইকলি তা জারি করা যায়।”

Print
553 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close