যশোরে ব্যাংকে কয়েন নেওয়া হচ্ছে না নিজ চোখে দেখলেন ম্যাজিস্ট্রেট

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোরে ব্যাংকের শাখাগুলোতে যে কয়েন নেওয়া হচ্ছে না, জেলা প্রশাসন এবার হাতেনাতে তার প্রমাণ পেলেন। অথচ কয়েকদিন আগেই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সভায় ‘কয়েন জমা নেওয়া হচ্ছে’ বলে দাবি করেছিলেন। ব্যাংকে কয়েন জমা না নেওয়ায় ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে বেকারি মালিকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। গেল এক সপ্তাহের মধ্যে তারা যশোরে সংবাদ সম্মেলন এবং শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় মানববন্ধন করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় কয়েন না নেওয়ার কোনো নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেয়নি। তাই কোনো গ্রাহকের কয়েন নিতে অস্বীকার করা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সোহেল হাসান জানান, ব্যবসায়ীদের অব্যাহত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংক ম্যানেজারদের বৈঠকে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজাররা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করেন।

ব্যাংক ম্যানেজারদের বক্তব্যের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য সোমবার দুপুরে আনোয়ার হোসেন নামে জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় গোপন করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের যশোর শাখায় যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উপশহরের জেসকো ফুড ফ্যাক্টরির ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম তখন পাঁচ, দুই ও এক টাকার কয়েন মিলিয়ে মোট তিন হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকের শাখাটিতে জমা দিতে যান। কিন্তু ব্যাংকটির ক্যাশ অফিসার ফরহাদউজ্জামান কয়েন জমা নিতে অস্বীকার করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢুকে নিজের পরিচয় দেন এবং ‘ব্যবসায়ীদের কয়েন যে জমা নেওয়া হচ্ছে না তা তিনি নিজ চোখে দেখেছেন’ বলে জানান। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক এই অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। বিপাকে পড়ে একপর্যায়ে তিনি ওই ব্যবসায়ীর কয়েন জমা নিতে রাজি হন।

এর পরও ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক জাহিদ বিন মোহাম্মদ কাছে দাবি করেন, ‘এটি সামান্য ভুল বোঝাবুঝি। ব্যবসায়ীদের আমরা অল্প করে কয়েন জমা দিতে বলেছি।’ তবে মদিনা বেকারির মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিথ্যা বলছেন। যশোরের বেকারি মালিকদের কাছে কোটি টাকারও বেশি কয়েন জমা হয়েছে। ব্যাংকে এই কয়েন জমা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা পুঁজি সংকটে পড়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।’

জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল হাসান বলেন, ‘কয়েন জমা না নেওয়া সংক্রান্ত কোনো সার্কুলার বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করেনি। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কয়েন জমা নিতে বাধ্য। এর অন্যথা হলে তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল হবে।’

ব্যাংক যে কয়েন নিচ্ছে না তা হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে এডিএম বলেন, ‘আমরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছি। সোনালী ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ও প্রথম সারির বেসরকারি বাণিজ্যিকি ব্যাংকগুলোতে কয়েন নেওয়া হচ্ছে কি না তাও সরেজমিন দেখা হবে। এর পর প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত আকারে অভিযোগ দেওয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার সীমিত। এক্ষেত্রে অনিয়মকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।’

Print
494 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close