হরতালের সমর্থনে গণজাগরণ মঞ্চের মশাল মিছিল

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা ও শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদ রশীদ টুটুল, কবি তারেক রহিম ও ব্লগার রণদীপম বসুকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে আগামীকাল হরতাল ডেকেছে গণজাগরণ মঞ্চ। আর সেই হরতালের মাধ্যমেই তারা আগামীকালের জেলহত্যা দিবস পালন করবে।

আজ সন্ধ্যায় হরতালের সমর্থনে শাহবাগে মশাল মিছিল করে সংগঠনটি। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা জানান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। ইমরান বলেন, ‘ব্লগার, লেখক, প্রকাশক থেকে শুরু করে যারাই উগ্রবাদী চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করে, তাদেরকেই হত্যা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা দুইদিন ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছি। আগামীকাল আমরা সারাদেশে অর্ধবেলা হরতালের ডাক দিয়েছি। যেহেতু সারা দেশের মানুষকে হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই, তাই আমরা প্রত্যাশা করছি প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ হরতাল কর্মসূচি পালন করবেন। আশা করছি কোনোরকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সারাদেশে এ কর্মসূচি পালিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। তাই সারাদেশে গণজাগরণ মঞ্চসহ সমমনা যেসকল সংগঠন ইতোমধ্যেই এ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষ যারা রাজপথে নেমে হরতাল পালন করবেন, আশা করছি তারা শান্তিপূর্ণভাবেই এ কর্মসূচি পালন করবেন।’

জেলহত্যা দিবসে হরতাল প্রসঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, ‘আগামীকাল জাতীয় জেলহত্যা দিবস। এ দিনে জাতীয় যে চারজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানাই। যে কারণে তারা সংগ্রাম করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্যই আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। জেলহত্যা দিবস কোনো উৎসবের দিন নয়, তাই উৎসবের মাধ্যমে নয়, প্রতিবাদের হরতাল পালনের মধ্য দিয়েই জেলহত্যা দিবস পালন করুন। জেলহত্যা দিবসসহ জাতির অন্যান্য শোক দিবসগুলো উৎসব করার দিন নয়, বরং প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদী হয়েই এসব দিবস পালন করা উচিৎ।’

ইমরান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে হত্যাকাণ্ড, এরপর জেলহত্যা, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগার, প্রকাশক হত্যা এবং সারাদেশের প্রগতিশীল মানুষের উপর যে হুমকি, এর কোনোটাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমরা হত্যার প্রতিবাদে হরতাল কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে প্রতিহত করার প্রত্যাশা জানাই। চিকিৎসাসহ যেসব জরুরি সার্ভিস রয়েছে, সেসব হরতালের আওতার বাইরে থাকবে। আমরা শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এবং সারাদেশে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজপথে থেকে হরতাল কর্মসূচি পালন করবো।’

প্রতিবাদী মশাল মিছিল শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে কাঁটাবন, নীলক্ষেত, টিএসসি হয়ে পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়। মিছিলে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীদের সাথে বিভিন্ন সমমনা সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন।

Print
545 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close