যশোর বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত সিকিউরিটি গার্ড ও পুলিশ নাজেহাল, ককটেল বিষ্ফোরন

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত পুলিশ ও বিমানবন্দরের নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ডদের নাজেহাল করা ছাড়াও ধাক্কাধাক্কি করেছেন শাসক দলের কর্মীরা। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দলে দলে ঢুকে পড়েন ভিআইপি লাউঞ্জসহ বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে। পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, ঘটনার সময় বিমানবন্দরের ভিআইপি গাড়ি পার্কিং ইয়ার্ডে চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের ক্যাডাররা। তবে শাহীন চাকলাদার এসপির দাবিকে ‘বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, ককটেল বিস্ফোরিত হলে তা সম্ভবত এসপিসাহেব নিজেই ফুটিয়েছেন।

ঘটনার ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি কিছু জানাতে পারেননি। তবে এ ব্যাপারে থানায় একটি ডায়রি হচ্ছে। ঘটনার পর পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার নোভো এয়ারের সন্ধ্যার ফ্লাইটে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার ঢাকা থেকে যশোর আসেন। তাদের স্বাগত জানাতে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জমায়েত হন বিমানবন্দরে।

বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর আওতায় শুধু যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে ঢুকতে দেওয়া হয় না। বিমানবন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও মোতায়েন থাকে বেশ কিছু সংখ্যক পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে যাওয়া নেতাকর্মীরা লাউঞ্জে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিমানবন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষীরা বাধা দেন। তারা নেতাকর্মীদের বলেন, ‘নেতৃত্ব পর্যায়ের কয়েকজন ভেতরে ঢোকেন। অন্যরা বাইরে থাকেন।’ কিন্তু পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের একথা শোনেননি নেতাকর্মীরা। তারা পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়েন লাউঞ্জে। তাদের অনেকে ভিআইপি লাউঞ্জেও ঢুকে পড়েন।

জানতে চাইলে যশোর এয়ারপোর্ট ম্যানেজার আলমগীর পাঠান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পাশের মসজিদে নামাজ পড়ছিলাম। ফিরে এসে নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে ঘটনা শুনেছি।’ ‘আমি যতটুকু শুনেছি তা হলো, রাজনৈতিক কর্মীরা আমার লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তারা পুলিশ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের ধাক্কা দিয়ে একযোগে ভেতরে ঢুকে পড়েন। যা বিমানবন্দরের সিকিউরিটির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।’- বলছিলেন এয়ারপোর্ট ম্যানেজার।

এদিকে, যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান দাবি করেন, শাহীন চাকলাদারের ক্যাডাররা বিমানবন্দরের সিকিউরিটি গার্ড ও পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি; তারা বিমানবন্দরের ভিআইপি গাড়ি পার্কিং এরিয়ায় চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়রি করার নির্দেশ দিয়েছি। আর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বলেছি মামলা করতে।’
কিন্তু পুলিশ সুপারের এই দাবিকে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে আখ্যা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।

তিনি বলেন, ‘ককটেল যদি বিস্ফোরিত হয়েই থাকে, তাহলে তা হয়তো এসপিসাহেব নিজেই ফুটিয়েছেন’
‘ওনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। পাগলে তো কত কিছুই বলে। বিমানবন্দরের মতো সিকিউরড জায়গায় কারও পক্ষে ককটেল ফোটানো অসম্ভব।’- যোগ করেন শাহীন চাকলাদার। এদিকে, ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ওসি রাত সাড়ে সাতটার দিকে বলেন, ‘আমি এখনও কিছুই জানি না। বিমানবন্দরে ডিউটিতে আছেন এসআই তারিকুল ইসলাম। তিনি ফিরলে ঘটনা জানতে পারব।’

এসআই তারিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘চাকলাদারসাহেবের উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বিমানবন্দরের মূল ভবনে ঢুকে পড়েন।’রাত আটটার দিকে কোতয়ালী থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়রি করা হচ্ছে। ডায়রি নম্বর ১৯৭। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডায়রির পাতা ফাঁকা ছিল।

ঘটনার ব্যাপারে মামলা করবেন কি না জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট ম্যানেজার আলমগীর পাঠান বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করলেই মামলা করতে পারি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কনসার্ন প্রয়োজন হয়। তবে অপ্রীতিকর ঘটনাটি আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি।’

Print
1516 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close