যশোর-নড়াইল মহাসড়কের বেহাল দশা

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোর-নড়াইল মহাসড়কের এমনই বেহাল দশায় উপনীত হয়েছে যে, এগুলোর উপর দিয়ে যান চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। যথাযথ সংস্কারের অভাব এবং একটানা ভারী বর্ষণে সড়ক-মহাসড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে অসংখ্য খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহন যেমন বিকল হয়ে পড়ছে, তেমনি সড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। নিম্ন মানের উপকরণ ব্যবহার এবং সময়মতো সংস্কার না করাই যে সড়কগুলোর এই দুর্দশার কারণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে জোড়াতালি দিয়ে খানা খন্দে পুটিং করে থাকে। এতে কিছু সময় পরিত্রাণ মিললেও বৃষ্টি ও যান চলাচলের কারণে, পুনরায় তা আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এর স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। দীর্ঘদিন পর রাস্তা পুনঃসংস্কারের পরিবর্তে ক্ষত স্থানে মলম লাগানোর মত সড়কের কোথাও কোথাও পুটিং করে দেওয়া হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক-মহাসড়কের এই অবস্থাকে মহাদুর্ভোগ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। তাদের এই মহাদুর্ভোগ কবে শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারে না। নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে কোনো রকমে মেরামত করায় অল্প দিনেই সড়ক-মহাসড়ক পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের জোড়াতালি দেয়া সংস্কার কাজ চলছে। এতে পরিবহন ও যাত্রীদের দুর্গতি অনিঃশেষই থেকে যাচ্ছে। সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার কাজ নিয়ে এমন দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকান্ড বিশ্বের আর কোথাও আছে কিনা, আমাদের জানা নেই। আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম এবং উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। এ স্বপ্ন পূরণের অন্যতম শর্ত যে সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, এ দিকটি যেন খেয়াল করছি না। অমসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যদি মানুষের যাতায়াত ও আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী পরিবহন দুর্ঘটে পড়ে, তবে কিভাবে এ স্বপ্ন পূরণ হবে? প্রায় প্রতিদিনই পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা লেগেই আছে, নিহত হচ্ছে অনেকে আর কত লোক যে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে তার সংখ্যা অগণিত। বলা বাহুল্য, এর অন্যতম কারণ, যান চলাচলে সড়ক অনুপযোগী হয়ে পড়া। অথচ প্রতি বছরই সড়ক-মহাসড়কের সংস্কারে শত শত কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। এত বিপুল অর্থ খরচ সত্ত্বেও সড়ক-মহাসড়ক যথাযথভাবে সংস্কার হচ্ছে না, এটা কেমন কথা! গলদ কোথায় এবং কিভাবে এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে রাস্তা সংস্কারের নামে অর্থ ব্যয় হবে, রাস্তা ঠিক হবে না, যাত্রী ও পরিবহন দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বর্ষা-বাদলের দেশ হিসেবে আমাদের দেশ পরিচিত। বিষয়টি বিবেচনা করেই সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও সংস্কার পরিকল্পনা নেয়া কাম্য। বন্যা ও বৃষ্টিসহনীয় উপকরণ দিয়ে কিভাবে সড়ক নির্মাণ করা যায়, এ চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি যাতে সড়ক-মহাসড়কে জমে না থাকে, দ্রুত নিষ্কাশিত হয়, এমন ব্যবস্থা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা যে তা জানে না, তা মনে করার কারণ নেই। জেনেশুনেও এ ধরনের উদ্যোগ কেন দেখা যায় না, তাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এ কথা সবাই অবগত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একশ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদার চক্রের দুর্নীতির কারণেই সঠিক ও উন্নতমানের উপকরণ দিয়ে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ এবং সংস্কার করা হয় না। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই চক্রের কারণে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘœ এবং প্রায়ই অচলাবস্থার শিকার হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়কের যে অংশ যেসব জেলা-উপজেলার আওতাধীন, সেসব অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অংশের দেখভাল ও সংস্কারের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কিনা, এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে। কোথাও বেহাল দশা হলে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যানবাহন চলাচল সহজ ও নির্বিঘ করতে সড়ক-মহাসড়ককে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে নির্মাণ এবং সংস্কার করার বিকল্প নেই।

Print
1111 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close