photo collected

যশোর বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বৃহত্তর যশোরবাসী সোচ্চার

হাসানুজ্জামান বিপুল :
যশোর বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বৃহত্তর যশোরবাসী সোচ্চার হউন। যশোরকে বিভাগ ঘোষণার যুক্তিসংগত কারণ –
মোঘল আমলের স্বাধীন রাজ্য, ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা ও দ্বিতীয় পৌরসভা, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন জেলা, বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরকে বিভাগ করার দাবিতে বৃহত্তর যশোর তথা যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলবাসী’কে নিয়ে এক বছর আগে গঠিত হয় “যশোর বিভাগ আন্দোলন পরিষদ”। সমৃদ্ধ ও প্রাচীন ঐতিহ্যে ভরপুর এবং পরিশীলিত বাংলা ভাষার উত্তরাধিকারের জন্য বাংলাদেশের ‘ভাষার রাজধানী’ যশোরকে বিভাগ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠনটি।

একটি প্রাচীন জেলা হিসেবে যশোরকে বহু আগেই বিভাগ করা উচিৎ ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বৃহত্তর যশোর জনপ্রতিনিধিরা এই বিষয়ে একবারেই উদাসীন। আজকের এই দাবিটি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বৃহত্তর যশোর ওয়েবসাইট (www.jessore.info) সংগঠনের কিছু সাধারণ যুবক, যাদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অথচ দাবিটি জানানো উচিৎ ছিল ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতিবিদের। বর্তমানের জাতীয় রাজনীতিতে বৃহত্তর যশোরের জনপ্রতিনিধিদের কেন্দ্রে তেমন কোন কর্তৃত্ব আছে বলেও মনে হয় না। একারণে নানা বৈষম্যমূলক আচরনের স্বীকার হয়ে আমরা বৃহত্তর যশোরবাসী শুধু পিছিয়েই যাচ্ছি। আমরা আশা করবো আপনারা যারা জনগনের প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা জনগনের দাবীকে মূল্যায়ন করবেন, বর্তমানের এই ইস্যুটি নিয়ে সরকারের কাছে দাবী আকারে উপস্থাপন করবেন এবং জনগনের পাশে এসে দাঁড়াবেন।

বৃহত্তর যশোর যে বাংলাদেশের একটি প্রাচীন জনপদ তাতে কোন সন্দেহ নেই। ১৪১৮ সালে খান জাহান আলী যশোরের শাসক হিসেবে আগমন করেন। সেই সময় তিনি বারোবাজার, মুড়লী কসবা, পয়গ্রাম কসবা ও বাগেরহাট নামে চারটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫৭৬ সালে যশোর রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ সরকার যশোর রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটিয়ে ব্রিটিশ ভারতের মধ্যে প্রথম জেলার মুকুট পরিয়ে দেয় এই যশোরকে। ব্রিটিশ সাহেব মি. টিলম্যান হেঙ্কেল এই জেলার প্রথম জজ ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিট্রেটের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেসময় নদীয়া, ২৪ পরগনা, খুলনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর ও পাবনার বেশির ভাগ এলাকা যশোর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। যশোর জেলা সৃষ্টির ৬১ বছর পর অর্থাৎ ১৮৪২ সালে খুলনাকে থানা থেকে যশোরের মহকুমা করা হয়। ১৮৮২ সালে অর্থাৎ যশোর জেলা প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পর খুলনাকে মহকুমা থেকে জেলা করা হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হলে বনগাঁ যশোর জেলা হতে বিচ্ছিন্ন করে ভারতের মধ্যে নেয়া হয়। ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট গঠিত হয় যশোর পৌরসভা। কলকাতা ও হাওড়ার পরেই যশোর পৌরসভার স্থান ছিলো। যশোর ছিলো কলকাতা প্রেসিডেন্সি বিভাগের আওতাধীন একটি মর্যাদাশীল জেলা।
১৮৩৮ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় যশোর জিলা স্কুল; যা বাংলাদেশের প্রাচীনতম স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম। ১৮৪৩ খৃষ্টাব্দে ঝিকরগাছার শিমুলিয়ায় দেশের অন্যতম প্রাচীন গীর্জা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ খৃষ্টাব্দে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এদেশের প্রাচীনতম পাবলিক লাইব্রেরী। ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট গঠিত হয় যশোর পৌরসভা। ১৮৬৫ সালে মাগুরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। ১৮৬৮ সালে যশোরের ঝিকরগাছা হতে শিশির কুমার ঘোষ বাংলাদেশের প্রথম ইংরেজি পত্রিকা অমৃতবাজার পত্রিকা প্রকাশ করেন, যা ছিল কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় ইংরেজি পত্রিকা। ১৮৭৫ সালে যশোহর কেন্দ্রীয় কারাগার কার্যক্রম শুরু করে। ১৮৭৮ সালে নড়াইল সদর হাসপাতাল স্থাপিত হয়। ১৮৮৪ সালে কলকাতা-যশোর রেলপথ নির্মিত হয়। ১৮৮৬ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০১ সালে যশোর সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৮ সালে যশোরে ডাক যোগাযোগ ও মানি অর্ডার চালু হয়। ১৯০৯ সালে যশোর টাউন হল নির্মিত হয়। সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে একই সময়ে টাউনক্লাব ও আর্য থিয়েটার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২১ সালে আর্য থিয়েটারের জন্য বি. সরকার মেমোরিয়াল হল তৈরী করা হয় যা বর্তমানে তসবীর মহল (সিনেমা হল) নামে পরিচিত। ১৯২২ সালে যশোরে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল স্কুল ও হাসপাতাল যা উপমহাদেশে তখন হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি ছিল। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় যশোর বিমানবন্দর স্থাপিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এই বিমানবন্দর। ১৯৫০ সালে যশোরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হয়। ১৯৬৩ সালে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড স্থাপিত হয়। ভারত বিভাগের পর যশোরে প্রথম শ্রেণীর সেনানিবাস প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনা সদস্যের বাস। ১৯৭২ সালের জুন মাসে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানী-রফতানী কাজ শুরু হয়। ২০০৩ সালের ১৭ এপ্রিল যাত্রা শুরু হয় বৃহত্তর যশোরকে নিয়ে বংলাদেশের প্রথম জেলা ভিত্তিক ওয়েবসাইট (www.jessore.info), যার প্রধান লক্ষ্য তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে বৃহত্তর যশোরবাসীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা, তাদেরকে সচেতন করা এবং একই ছাতার নীচে এনে ভ্রাতৃত্ববোধের সেতুবন্ধন সুদৃড় করা। ২০১০ সালে যশোর জেলাকে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
নীল বিদ্রোহ, বৃটিশ বিরোধী ভারত ছাড় আন্দোলন, তেঁভাগা আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, বিধবা বিবাহ আন্দোলন, সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনের সুতিকাগার এই যশোর জেলা। জনসংখ্যার দিক দিয়ে খুলনা বিভাগে এগিয়ে আছে বৃহত্তর যশোর জেলা। সুতরাং যেসব যুক্তিতে অন্যান্য জেলাকে সুশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ব্যবস্থা হিসেবে বিভাগ করার পরিকল্পনা চলছে সেসব যুক্তি ও যোগ্যতার সকল কিছুই বিদ্যমান বৃহত্তর যশোরে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৯৪৭ সালে বৃটিশের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর যশোর ক্রমান্বয়ে তার মর্যাদা হারাতে থাকে। কালপরিক্রমায় যশোরের একাধিক মহকুমা ও থানাকে আশপাশের জেলার সাথে যুক্ত করা হয় এবং যশোর নামের সেই রাজ্যটি একটি পরিত্যক্ত সংকীর্ণ জেলায় পরিণত হয়। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বদিক দিয়ে যশোর পিছিয়ে পড়ে। যশোরবাসীর মনে এনিয়ে দুঃখবোধের অন্ত নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এহেন বৃহত্তর যশোর জেলা বর্তমানে অবহেলিত এক জনপদে পরিণত হয়েছে। যশোরে একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক ইউনিট না থাকায় বৃহত্তর যশোর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে দিন দিন। যা অত্যান্ত বেদনার।

এই জেলার রয়েছে পৃথক পরিচিতি। এখানকার অধিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি, আচার ব্যবহারে ভিন্নতা রয়েছে। যশোর জেলা খাদ্যশস্য, মাছের পোনা, সবজি, খেজুরের গুড়, ফুল, গাড়ীর যন্ত্রাংশ, সবজী উৎপাদনে বিখ্যাত এবং উদ্বৃত্ত জেলা। যশোরের ৩ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার ১১ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন ধান ও গম উৎপাদিত হয়। ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ৫ লাখ মেট্রিক টন সবজি ফলে। এক হাজার হেক্টর জমিতে বছরে ৩শ’ কোটি টাকার ফুল উৎপাদিত হয়। এই ফুল দেশের সব জেলায় যায়। মাছ উৎপাদনে যশোর আরও এগিয়ে। ৪১ হাজার চাষযোগ্য জলাশয় ও ১৯ হাজার উন্মুক্ত জলাশয়ে বছরে মাছ উৎপাদিত হয় ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। যশোরের ভাত-মাছ খেয়ে অনেক জেলার মানুষ বেঁচে আছে।

বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক এলাকা যশোর। যেখানে বাংলাদেশ সরকারের সরকারী একাউন্ট রয়েছে ৪৭টি সেখানে খুলনায় মাত্র ৩৭টি। বাংলাদেশের প্রধান ৫টি রাজস্ব প্রদানকারী জেলার একটি যশোর যা খুলনা বিভাগে প্রথম। প্রাকৃতিক বিপর্যয়মুক্ত এই জেলায় বর্তমানে রেলওয়ে জংশন, বিমানবন্দর, নৌবন্দর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, দু’টি কাস্টমস কমিশনার কার্যালয়, কেন্দ্রীয় কারাগার, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, সেনা গ্যারিসন, বিমান ঘাঁটি, বিজিবি’র দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিওনাল সদর দপ্তর, তিনটি মেডিকেল কলেজ, বিসিক শিল্পনগরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৭৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত অবিভক্ত বাংলার প্রথম বারভবনসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকটি বিভাগীয় কার্যালয় রয়েছে। যশোরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সাথে আকাশপথ, নৌপথ, সড়ক ও রেলপথে রয়েছে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। নওয়াপাড়া শিল্পনগরী ও নৌবন্দরের মত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোন রয়েছে এই জেলায়, যার সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। এতগুলো অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় যশোর বিভাগ হিসাবে মর্যাদা পাবার জন্য সর্বোচ্চ বিবেচনার দাবি রাখে। এ জেলার যেসকল গুণী ব্যক্তিরা দেশ ও জাতীর সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম- মরমি কবি ফকির লালন শাহ-১৭৭২ (হরিনাকুন্ডু, ঝিনাইদহ), কবিয়াল পাগলা কানাই-১৮০৯, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত-১৮২৪, সাংবাদিক শিশির কুমার ঘোষ-১৮৪০, সমাজসেবক রায় বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার-১৮৫৯, ইসলাম প্রচারক মুন্শী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ-১৮৬১, গনিতবিদ কে. পি. বসু-১৮৬৫, জ্যোর্তিবিদ রাধাগোবিন্দ চন্দ্র-১৮৭৮, বিপ্লবী বাঘা যতীন-১৮৮০, চলচ্চিত্র পরিচালক নরেশ মিত্র-১৮৮৮, লেখক ডা. মোঃ লুৎফর রহমান-১৮৮৯, রাজনীতিবিদ সৈয়দ নওশের আলী-১৮৯১, চিকিৎসা বিজ্ঞানী নীলরতন ধর-১৮৯২, কবি গোলাম মোস্তফা-১৮৯৭, রাজনীতিবিদ খান সাহেব আব্দুল আজিজ-১৮৯৭, নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর-১৯০০, কবিয়াল বিজয় সরকার-১৯০৩, কবিয়াল মোসলেম উদ্দীন-১৯০৪, চলচ্চিত্র অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্য-১৯০৫, কবি কাজী কাদের নওয়াজ-১৯০৯, ঔপন্যাসিক নীহাররঞ্জন গুপ্ত-১৯১১, সঙ্গিত পরিচালক কমল দাসগুপ্ত-১৯১২, কমরেড অমল সেন-১৯১২, কমরেড হেমন্ত সরকার-১৯১৪, কবি ফররুখ আহমেদ-১৯১৮, নৃত্য শিল্পী অমলা শঙ্কর-১৯১৮, বিশ্ববিখ্যাত সেতার বাদক রবি শঙ্কর-১৯২০, কমরেড আব্দুল হক-১৯২০, কবি সৈয়দ আলী আহসান-১৯২২, চিত্র শিল্পী এস. এম. সুলতান-১৯২৩, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বনানী চৌধুরী-১৯২৪, কমরেড ইলা মিত্র-১৯২৫, কবি ও শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী-১৯২৮, সাংবাদিক গোলাম মাজেদ-১৯২৮, সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেন-১৯২৯, ঔপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য-১৯৩১, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক প্রফেসর মোঃ শরীফ হোসেন-১৯৩৪, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার-১৯৩৫, প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান-১৯৩৬, কবি ও গীতিকার ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান-১৯৩৬, পরমানু বিজ্ঞানী ড. এম. শমশের আলী-১৯৩৭, রাজনীতিবিদ হায়দার আকবর খান রনো-১৯৪২, কবি ও গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান-১৯৪৩, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়-১৯৪৬, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান-১৯৪৭, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুচন্দা-১৯৪৭, সঙ্গিত পরিচালক প্রণব ঘোষ-১৯৫০, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা-১৯৫৫, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী চম্পা-১৯৬১, চলচ্চিত্র অভিনেতা রিয়াজ-১৯৭০, সঙ্গিত শিল্পী মনির খান-১৯৭২, ব্যান্ড শিল্পী হাসান, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবনুর, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা-১৯৮৩, ক্রিকেটার সাকিব আল-হাসান-১৯৮৭ প্রমুখ। এর বাইরেও রয়েছে বহু গুণীব্যক্তি যাদের কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকান্ডে আমরা গর্বিত।

যশোর থেকে ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা দূরত্বের দিক থেকে অনেক কাছে। তাছাড়া একসময় এসব অঞ্চল যশোর জেলারই অংশ ছিল। যশোরকে বিভাগ করা হলে ঐ জেলাগুলির প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনা সহজতর হবে। যশোরের বাড়তি সুবিধা হচ্ছে এক সময়ের ৩৬০ দরজার দ্বি-তল কালেক্টরেট ভবন। এই ভবনটি খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের চেয়েও বৃহৎ। কাজেই যশোর বিভাগ হলে এই ভবন থেকেই বিভাগীয় সকল দাপ্তরিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা সম্ভব। সুতরাং বিভাগীয় কার্যালয় ভবন নির্মাণের জন্যে সরকারের কোন বাড়তি ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। বেনাপোল বন্দর থেকে বছরে যে ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয় যশোর বিভাগ হলে উন্নয়ন কর্মকান্ডে এই টাকা থেকে বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে। সুতরাং বিভাগ হওয়ার সুবিধা বিবেচনায় যশোর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই যশোরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা ও বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলার মর্যাদা ধরে রাখার জন্যে যশোরকে বিভাগ করতেই হবে। এই লক্ষে পৌঁছাতে হলে বৃহত্তর যশোরবাসীকে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং সকলকে সমস্বরে আওয়াজ তুলতে হবে “যশোর বিভাগ চাই”।

– যশোর বিভাগ আন্দোলন পরিষদ (ঢাকা)
উদ্যোক্তা: বৃহত্তর যশোর ওয়েবসাইট (www.jessore.info) ও যশোর ইনফো ফাউন্ডেশন।
যোগাযোগ: ০১৭১২১৪২০৭৬, ০১৯১২০৭৪১২৬, ০১৬৭৭০৭২৬১৮, ০১৯৭৪০৯০৯১৩, ০১৭১৮৯২৭১০৩

Print
2515 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close