সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট পাস

এক্সপ্রেস ডেস্ক: ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায়, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। গত ২ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ বাজেট পেশ করেন। নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৬ সংসদে গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই বাজেট পাস করা হয়। বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৫টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

প্রধান বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যগণ মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে মোট ৪২০টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৭টি দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৬ পাসের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন। গত ৬ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও অন্যান্য মন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধীদলের ২৪৬ জন সদস্য ২০ কার্যদিবসে মোট ৬০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট মূল বাজেট ও সম্পুরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে সরকারি দলের ১৯৩জন এবং বিরোধী দলের ৫৩ জন রয়েছে।
এর মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ২ কার্যদিবসে ৯ জন সদস্য ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট এবং মূল বাজেটের ওপর ১৮ কার্যদিবসে ২৩৭ জন সরকার ও বিরোধীদলের সদস্য মোট ৫৯ ঘন্টা ১৪ মিনিট আলোচনা করেন।
বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৪ শতাংশ। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.৬ শতাংশ।
বাজেটে অনুন্নয়নসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১.৪ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১ লাখ ১০ হাজার ৭শ’কোটি টাকা যা জিডিপির ৫.৬ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ খাতে ইসিএ ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ১২ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। এর ফলে এডিপির মোট আকার হলো ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.৩ শতাংশ।
বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৩৬ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১.৯ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ৩.১ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ২২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
Print
695 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close