প্রোগ্রামিংয়ে সেরা যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র নিলয় ও তার দল

আইটি ডেস্ক: বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। যে যত বেশি প্রযুক্তিতে পারদর্শী সে-ই সব কাজে নেতৃত্বদানকারী। আর প্রযুক্তি নিয়ে যদি হয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা হয়, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে তা হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এমনই এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মর্যাদাপূর্ণ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এসিএম-আন্তর্জাতিক কলেজিয়েটট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় ১২১ দল। সবাইকে পিছনে ফেলে ঢাকা পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম অধিকার অর্জনকারী ‘জেইউও এন-কিউব’ দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে রাহাত জামান নিলয় হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইজ্ঞিনিয়ারিং বিভাগের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র । অন্য দুজন মো. নাফিস সফিক ও  নিলয় দত্ত ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গত ১৪ নভেম্বর রাজধানীর নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১২১টি দল। যেখানে তাদের টানা পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ১০টি করে সমাধানের জন্য প্রাগ্রামিং সমস্যা দেয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রতি দলে ছিলেন তিনজন করে সদস্য। দশটি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মধ্যে সাতটি সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জেইউ-ও এনকিউব’ দল। ছয়টি সমস্যার সমাধান করে প্রথম রানার্সআপ হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাস্ট ডাউন টু দ্য ওয়্যার’ দল। অন্যদিকে পাঁচটি সমস্যার সমাধান করে দ্বিতীয় রানার্সআপ হয় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এনএসইউ বাগলাভার্স’ দল। প্রথম দশটি দলের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জেইউ এসএমএস’ ও জেইউ ব্যাকবেঞ্চারস’ নামে আরো দুটি দল উঠে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি দলই চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রাহাত জামান নিলয় বলেন, আমরা ভাবিনি চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো। প্রতিযোগিতাটি অনেক কঠিন এবং হাড্ডাহাড্ডি ছিল। প্রথম থেকে আমরা অনেক চেষ্টার মাধ্যমে সফল হয়েছি। আমরা শুধু তিনজনই চ্যাম্পিয়ন হইনি, আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে চ্যাম্পিয়ন করেছি। আমাদের এই জয়ে আমরা অভিভূত। নিলয় জানান, পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ইচ্ছা আছে তার। তিনি এমন কিছু করতে চান যেখানে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। যাদের বিদেশে গিয়ে আর চাকরির জন্য পড়ে থাকতে হবে না। এর মাধ্যমে এই দেশে মেধা পাচার কমবে। বাংলাদেশে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া শীর্ষ দুটি দল আগামী বছরের মে মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আইসিপিসির চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। যেখানে আরো ৪৫টি দেশ থেকে ১২০টি দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ সম্পর্কে মো. নাফিস সফিক বলেন, পরবর্তী প্রতিযোগিতা যেহেতু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সেহেতু একটু কঠিন হবেই। তবে আমরা বিশ্বদরবারে আমাদের দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচিত করার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো।

Print
491 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close