মাকে ছাড়া আবারও ঈদ করলেন তারেক

এক্সপ্রেস ডেস্ক: খালেদা জিয়াকে ছাড়া এবারো বিদেশ বিভুঁইয়ে ঈদ করছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। প্রায় আট বছর ধরে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে ঘরোয়া পরিবেশে এভাবেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন তিনি।

বুধবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে লন্ডনের কিং স্টোন মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। তারপর তিনি বাসায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এমনটাই জানিয়েছেন তারেক রহমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত লন্ডন বিএনপির এক নেতা। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তিনি এও জানিয়েছেন, দেশে অবস্থানরত মা খালেদা জিয়াকে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তারেক রহমান। এসময় খালেদা তারেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। যদিও ওই সময় খালেদা জিয়া রোজারত ছিলেন। কারণ বাংলাদেশে লন্ডনের একদিন পর ঈদ উদযাপন হবে।

আরো জানা গেছে, ঈদ উদযাপনে এবার তারেক পরিবারের সঙ্গী হয়েছেন তার প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাহিয়া ও জাফিয়া রহমান। কোকোর পরিবারও এখন ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন।

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পর শুধু গত ঈদুল আযহাই মায়ের সঙ্গে উদযাপন করার সুযোগ পান তারেক রহমান। কেননা, চিকিৎসার জন্য ওই সময় লন্ডন যান খালেদা জিয়া।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান গ্রেপ্তার হন। ওই বছরের ৮ মার্চ গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। এরপর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। সেই থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক।

অন্যদিকে, ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন আরাফাত রহমান কোকো। এরপর ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই কোকোকে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য প্রথমে তিনি থাইল্যান্ডে যান, পরবর্তীতে সেখান থেকে সপরিবারে মালয়েশিয়া চলে যান।

৪৫ বছর বয়সে ২০১৫ বছরের ২৪ জানুয়ারি অসুস্থতাজনিত কারণে মালয়েশিয়ায় মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। এরপর ২৭ জানুয়ারি কোকোর মরদেহ দেশে আনা হয়, সঙ্গে স্ত্রী ও দুই মেয়ে আসেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা সেরে ওইদিনই কোকোকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়া ফিরে যান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। গত ছয় মাস মতো আগে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার মালয়েশিয়া থেকে ইংল্যান্ডে চলে যান বলে জানা যায়।

এদিকে, চিকিৎসার জন্য ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে পৌঁছান খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমান স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে প্রায় আট বছর ধরে বাস করছেন। এছাড়া প্রায় আট বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়েও তখন লন্ডনে যান। ফলে প্রায় আট বছর পর দেশের বাইরে গত ঈদুল আযহা সপরিবারে উদযাপন করেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন (চীন মৈত্রী) কেন্দ্রে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক, দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে খালেদা জিয়া প্রথমে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর এবং পরবর্তীতে বনানীতে ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া ঈদের আগের দিন রাতে অথবা ঈদের দিন সকালে লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে তারেক রহমান, বড় পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান ও ছোট পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান, নাতনি তারেকের মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত কোকোর দুই মেয়ে জাহিয়া ও জাফিয়া রহমানের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। এরপর বাসায় আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। সেখান থেকে দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যাবেন খালেদা জিয়া।

Print
858 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close