যাদের জীবনে ঈদের খুশি ফিরে আসে না

এক্সপ্রেস ডেস্ক: ঈদ মানেই আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব আর ভালোবাসায় একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ও খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়া। কিন্তু সেই দিনটিই যাদের কাছে স্বজন হারানোর দিন তাদের কাছে ঈদের খুশি কখনও ফিরে আসে না।

ঠিক এমনই ঘটনা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফারাকপুর ও গঙ্গারামপুর গ্রামে। ২০১৪ সালে ঈদের দিনে পদ্মায় নৌকা ডুবিতে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। ঈদ আসলেই তাদের পরিবারের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগির পরিবর্তে ভাগ করে নেয় দুঃখ আর স্বজন হারানোর বেদনা। ঈদ ফিরে আসা মানেই পদ্মার গর্ভে হারিয়ে যাওয়া আপন জনের লাশ স্মৃতিপটে ভেসে ওঠা।

ফারাকপুর ও গঙ্গারামপুর গ্রামে বছরের অন্য দিনগুলো স্বাভাবিক হলেও ঈদ আসলেই  কান্না যেন লেগেই থাকে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে।

ফারাকপুর ও গঙ্গারামপুর গ্রামের স্বজন হারানো সেই পরিবারের কয়েকজন বলেন, ওই ঘটনার কথা মনে হলেই এখনও দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয় ওইদিন ঈদ যেন ছিল আমাদের জন্য অভিশাপ।

স্থানীয়রা জানান, সেদিনের মতো ঈদের বেদনাময় দিন যেন কারও জীবনে না আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মায় নৌকা ডুবে নিহত সাহাজুলের ঘরে আছে দুই অবুঝ শিশু। তাদের এখনও ঈদের নতুন পোশাক কেনা হয়নি। মা ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। কবে আসবেন তাও তারা জানে না।

সে সময় নৌকা ডুবিতে ১৫ জন নিখোঁজ হন। পরে ১৩ জনের লাশ উদ্ধার হলেও আজও নিখোঁজ রয়েছে কেয়া মনি নামে এক শিশু। দুই বছর পর আবারও সেই খুশির ঈদ সবার মাঝে ফিরে এসেছে। কিন্তু সে ঈদ  ওই পরিবারের জন্য বয়ে এনেছে বুক ভরা কষ্ট আর আর্তনাদ।

আবার স্বজন হারিয়ে যারা বেঁচে এসেছে তারাও আজ বাকরুদ্ধ। তাদের জীবনে আর কোনও দিনই ঈদের আনন্দ ফিরে আসবে না। পারবে না তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের গত ২৯ জুলাই বিকেলে ঈদ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীর চর এলাকায় পদ্মা নদীতে আনন্দ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কমপক্ষে ২২ জন যাত্রী ইঞ্জিনচালিত একটি ছোট নৌকায় বৈরাগীর চর ঘাট থেকে নদীর মধ্যবর্তী একটি চরে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর প্রবল ঢেউয়ের মুখে নৌকাটি উল্টে যায়। এতে ১৫ জন নিখোঁজ হয়। পরে তিনদিন অভিযান চালিয়ে ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

Print
993 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close