পরিবারকে জানিয়েই সস্ত্রীক তুরস্কে পাড়ি জমান শাফি!

এক্সপ্রেস ডেস্ক: জনতার মঞ্চের নেতা, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন সচিব, সাবেক নির্বাচন কমিশনার শফিউর রহমানের ছেলে তাহমিদ রহমান শাফি পরিবারকে জানিয়েই স্ত্রীসহ তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গুলশান হামলার ছয়দিনের মাথায় বাংলাদেশে আবার হামলার হুমকি দিয়ে সিরিয়া থেকে প্রকাশিত ভিডিওর তিন তরুণের একজন এই শাফি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স দাবি করেছে, তিন তরুণের ওই ভিডিওবার্তাটি জঙ্গি সংগঠন আইএসের।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি। এতে দেখা যায়, তিন তরুণকে বাংলায় কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তাঁরা গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজানে হামলাকারীদের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে আরো হামলার হুমকি দেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর এই তিন তরুণের পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসতে থাকে। পরে বিবিসি বাংলা তাদের ওই প্রতিবেদনে জানায়, তিন তরুণের একজনের নাম তাহমিদ রহমান শাফি।

উল্লেখ্য, এই শাফির বাবা শফিউর রহমান ৮৬ সালে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা রাখেন। তার বাবা শফিউর রহমান সচিব, জনতার মঞ্চের নেতা ও নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ৯৬ সালে বিএনপি সরকারের পতনের জন্য প্রশাসনের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জনতার মঞ্চ। তৎকালীন আওয়ামী লীগ পন্থি সচিব মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও সচিব শফিউর রহমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্বে বিদ্রোহ এবং ওই মঞ্চের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ওই সময় পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। জনতার মঞ্চে নেতৃত্ব দেয়ার পুরষ্কার হিসেবে ওই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাকে স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পরে সংস্থাপন (বর্তমানে জনপ্রশাসন) সচিব করেছিলো। চাকরির বয়স শেষে শফিউর রহমানকে আওয়ামী লীগ সরকার আনুগত্যের পুরষ্কার হিসেবে নির্বাচন কমিশনারও করেছিলো। যেহেতু এটি সাংবিধানিক পদ তাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসেও তাকে সরাতে পারেনি।

রাজধানীর বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি অভিজাত এলাকায় শাফিদের একটি বাড়ি রয়েছে এবং এখানেই তারা বসবাস করেন। এলাকাটির সব বাসিন্দাই অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনতলা বাড়িটিতে গিয়ে ফটক বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। পরে অনেক ডাকাডাকির পর বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন বাড়ির দারোয়ান। তবে তাঁকে শাফির ছবি দেখানো হলে চিনতে পারেননি বলে জানান তিনি।

কিন্তু, ওই গলির একটি চায়ের দোকানদার ছবি দেখে শাফিকে শনাক্ত করেন। সাত আট মাস আগেও শাফিকে দেখা যেত তবে এখন আর দেখা যায় না বলে জানান তিনি। শাফিদের বাড়ির সামনের আরেকটি বাড়ির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে বিবিসি বাংলা জানায়, ওই বাড়ির (শাফিদের বাড়ি) একটি ছেলে গ্রামীণফোনে চাকরি করত বলে তিনি শুনেছেন। সে বছরখানেক আগে বিয়ে করার পর স্ত্রীকে নিয়ে তুরস্কে চলে গেছে বলেও তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ছাড়া শাফি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়তেন বলেও জানান তাঁরা।

বিবিসি বাংলা বলছে, এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, তাহমিদ রহমান শাফি নিখোঁজ ছিলেন না। বাড়িতে জানিয়েই তিনি এমন একটি দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন যে দেশটি সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে ইচ্ছুকদের একটি ট্রানজিট হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া গ্রামীণফোনের কয়েকজন কর্মীর সাথে কথা বলেও শাফির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বিবিসি বাংলা। শাফির এক ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জানান, সে শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া করেছিল। নিজে গান লিখত, তাতে সুর দিত। সে কারণে শাফির এই পরিবর্তনে রীতিমতো হতবাক ওই সহকর্মী।

Print
629 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close