যশোরে মাদরাসাছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন শিক্ষকদের

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোরের বাঘারপাড়ায় সাইকেল চুরির অপবাদে আব্দুল কাদের (১৩) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে নির্মম নির্যাতন করেছেন তারই শিক্ষকরা। পুলিশ দু’ শিক্ষককে আটক করেছে। আব্দুল কাদের দাঁদপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং বন্দবিলা ইউনিয়নের খাজুরা বাজার এলাকার দারুল উলুম ছওতুল কোরআন মাদরাসার (কওমি) আবাসিক ছাত্র। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে উল্লিখিত মাদরাসা অভ্যন্তরে এ ঘটনাটি ঘটে। অঅর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত ওই ছাত্রের  মা পারভীন বেগম। কাদেরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দু’দিন আগে মাদরাসার ভেতর থেকে একটি বাইসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষকরা দায়ী করেন আবাসিক ছাত্র কাদেরকে।

মাদরাসা সুপার সালাহউদ্দিন আহম্মেদ দুইজন শিক্ষককে নির্দেশ দেন কাদেরকে নির্যাতন করে সাইকেলটি উদ্ধারের। শনিবার রাত ৯ টার দিকে মক্তব বিভাগের শিক্ষক আব্দুল গফ্ফার ও আসাদুজ্জামান নামে আরেক শিক্ষক একটি শ্রেণিকক্ষের দরজা জানালা বন্ধ করে প্রথমে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বলেন। এতে রাজি না হলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সাইকেল চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করতে শিক্ষকরা  কাদেরের বুকে প্লায়ার্স দিয়ে চামড়া ছিঁড়ে দেন। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সেখানে ফেলে রাখা হয়। রবিবার ভোরে জ্ঞান ফিরলে কাদের পরিবারের মাঝে ফিরে এই নির্মম ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে তার মা পারভীন বেগম বাঘারপাড়ায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। জানতে চাইলে বাঘারপাড়া থানার এসআই ছামেদুল হক বলেন, ‘ওসি স্যার বাইরে আছেন। উনি এলে মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ বাঘারপাড়া থানার ওসি ছয়রুদ্দিন আহমেদ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত দু’শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।
কাদের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Print
623 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close