জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে জাতীয় কাউন্সিল করার কথা ভাবছে বিএনপি। এ বিষয়ে এখনো দিনক্ষণ ঠিক করেনি দলটি। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে আগামী ২৮ মার্চ জাতীয় কাউন্সিল করার ঘোষণা দিয়েছে। তাই এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপিও প্রস্তুতি নিচ্ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ফলে ওই পদটি এখন ফাঁকা। দলের মহাসচিব পদটিও শূন্য। স্থায়ী কমিটির নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ। দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না। অবশ্য দলীয় গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে চাইলে এসব পদ পূরণ করতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। এর মধ্যে ছয় বছর কেটে গেছে। এদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুসারেও দলের গঠনতন্ত্রে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকায় নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করে কাউন্সিলের সময় বাড়িয়ে নেয় বিএনপি। কাউন্সিল না হওয়ায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিএনপিতে মহাসচিব পদটি এখন শূন্য। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এরপর ২০ মার্চ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সৌদি আরবে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে যান। তখন থেকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির কাউন্সিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোমবার দুপুরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘কাউন্সিল হবে, একটা দলের সাংগঠনিক শক্তি জন্য কাউন্সিলই হচ্ছে মূল। আমরা কাউন্সিল করতে চাই। আমাদের হোমওয়ার্ক চলছে।’ কবে নাগাদ বিএনপির কাউন্সিল হতে পরে এমন প্রসঙ্গে নোমান বলেন, ‘এখনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এটা ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবেন। আমরা তো চাই সামনের মাসে(ফেব্রুয়ারি) করতে পারলেই ভালো হবে। শুধু সম্মেলন করলেই তো আর হবে না, আগে বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনগুলোকে গোছাতে হবে।’

এ বিষয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এখনো দিন-তারিখ ঠিক করিনি। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। আরও কিছুদিন গেলে দেখা যাবে। যদি কাউন্সিল করতে হয় তাহলে পুনর্গঠনের মাঝখানেও করা যাবে।’ দল পুনর্গঠনে আরও দুই-আড়াই মাস সময় লাগবে এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর জন্য কাউন্সিল আটকে থাকবে না। কারণ, আমরা কমিটিগুলো ভেঙে দিয়ে দল পুনর্গঠন করছি না। কমিটিগুলো আছে ইচ্ছে করলে কাউন্সিল করা যাবে। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’

বিএনপিসহ তথ্য গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হাবীবুর রশিদ হাবীব বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে কাউন্সিল করার চেষ্টা করছি। বিরূপ পরিস্থিতির কারণে তা হয়ে উঠছে না। দু’বছর আগে একবার কাউন্সিলের পোস্টারও ছাপানো হয়ে গিয়েছিল শেষ পর্যন্ত আর করতে পারলাম না। এখন এটা প্রস্ততি চলছে। মার্চের মধ্যে একটা একটা কাউন্সিল করার চেষ্টা আছে।’ দলের এক দায়িত্বশীল নেতা দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে কাউন্সিল করার একটা পরিকল্পনা আছে। খুব শিগ্‌গিরই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতা, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকদের থেকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেবেন। এ ছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে যারা কাজ করেছেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করার কাজ ইতোমধ্যে চলছে। এ তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দল গোছানোর প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হবে। যেন যেকোনো সময় কাউন্সিল করা যেতে পারে।’

গত বছর সেপ্টেম্বরে জেলা, উপজেলা, থানাসহ সকল কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। কিন্তু অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই পৌরসভা নির্বাচন অংশ নিয়ে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। এখন আবার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০১৩ সালে একবার ৯ মার্চ ও পরবর্তীতে ১৯ মার্চ দিন-তারিখ ঠিক করেও কাউন্সিল করতে পারেনি বিএনপি। তাই এবার আগে থেকেই হাঁকডাক না দিয়ে সবকিছু গুছিয়ে এনেই কাউন্সিলের ঘোষণা দিতে চায় দলটি।

সূত্র: দ্য রিপোর্টকে

Print
828 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close