‘বন্ধ হচ্ছে’ সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: অষ্টম বেতন কাঠামোয় ‘অসঙ্গতি’ দূর করতে বেঁধে দেওয়া সময় পার হওয়ায় সোমবার থেকে সারা দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। এই কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রেখে শুধু চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা।

অপর ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না সে সিদ্ধান্তের ভার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সমিতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় নয় মাস আগে অষ্টম বেতন কাঠামোর প্রস্তাব আসার পর গ্রেডে মর্যাদার অবনমন এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল।এরপর সরকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি পর্যালোচনায় কমিটি করে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকও করেন।

গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর বেতন কাঠামোর গেজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। এ প্রেক্ষাপটে গত ২ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা বলেন, দাবি পূরণ না হলে ১১ জানুয়ারি থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সর্বাত্মক’ কর্মবিরতিতে যাবেন তারা। এর মধ্যে ৩ জানুয়ারি থেকে কালো ব্যাজ ধারণ এবং ৭ জানুয়ারি দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষিত সময় শেষ হওয়ার দুদিন আগে শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই সংকট সমাধানের আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে ‍তিনি বলেন, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ‘সচিব পর্যায়ের টাস্কফোর্স’ কাজ করছে। খুব শিগগিরই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে। তবে পরদিন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষকরা নিজেদের ‘ছোট করছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। “যে যেখানে চাকরিতে যায় সে সেখানকার নীতিমালা মেনেই তো সেখানে যায়। সব কিছু তো একটা ডিসিপ্লিনে চলতে হবে। এখন কার সাথে কার তুলনা? “পেটে যখন ক্ষুধা থাকে তখন মানুষ অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়। যখন ক্ষুধার জ্বালা দূর হয়ে যায় আর বেশি প্রাচুর্য পেয়ে যায় তখন প্রেস্টিজ, ন্যায়, সম্মান, পদায়ন নানা কথা স্মরণে আসে। মনে হয় একটু বেশি বাড়িয়ে ফেলেছি বেতনটা। সেজন্য এখন প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ পরিস্থিতিতে রোববার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সোমবার থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার কর্মবিরতি পালিত হবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।” সান্ধ্যকালীন কোর্সও এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। তবে ‘শিক্ষার্থীদের অনুরোধ ও তাদের শিক্ষাজীবন রক্ষার’ বিষয় বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কর্মবিরতি চলাকালে শুধু সেমিস্টার বা কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। “তবে মিডটার্ম পরীক্ষাসহ অন্যান্য সকল শ্রেণি পরীক্ষা এ সময় স্থগিত থাকবে,” বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার রোববার বলেন, শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে তারা কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। “কর্মবিরতি চলাকালে শিক্ষকরা নিয়মিত এবং সান্ধ্যকালীনসহ সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এ সময় কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমও চলবে না।” আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, অর্থমন্ত্রী তাদের অষ্টম বেতন কাঠামোয় সপ্তম বেতন স্কেলে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা না কমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল, সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের মধ্যে থেকে একটি অংশকে সিনিয়র সচিবদের জন্য সৃষ্ট ‘সুপার গ্রেডে’ উন্নীত এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন সপ্তম গ্রেডে সম্ভব না হলে অষ্টম গ্রেড থেকে শুরু করার দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সেই প্রতিশ্রুতির মধ্যে শুধু প্রারম্ভিক বেতনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়েছে মন্তব্য করে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, “অর্থমন্ত্রী এখন বিবৃতি দিয়ে বলছেন- প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। প্রতিশ্রুতি না দিলে তিনি বেতন বৈষম্য নিরসন কমিটিতে আলোচনা ছাড়াই এবং তাদের অনুমোদন ছাড়া পরিপত্র জারি করলেন কেন?”

Print
349 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close