জঙ্গিবাদবিরোধী ‘ফর্মুলা’ নিয়ে আসছেন খালেদা জিয়া!

এক্সপ্রেস ডেস্ক: সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবাদবিরোধী ‘ফর্মুলা’ দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই ফর্মুলার প্রধান লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্য গঠন। পাশাপাশি জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য স্থাপন করা। এভাবে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) রাতে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই ফর্মুলার রূপরেখা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হচ্ছে। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা ও প্রবীণ এক বুদ্ধিজীবী এসব তথ্য জানান।

সূত্র জানায়, বিএনপি মনে করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টির মূলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই দায়ী। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা না থাকার সুযোগেই দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত কাজ করছে। এ কারণে সরকারকে নিয়েই জাতীয় ঐক্য গঠন করতে আগ্রহী বিএনপি। এ লক্ষ্যে, আজ মঙ্গলবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি এ বৈঠকের আগে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবেন খালেদা জিয়া। আগামীকাল বুধবার ঐক্যের ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা করতে ইতোমধ্যে বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক-শিক্ষকসহ পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়া ৩ জুলাই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর খালেদা জিয়া বলেছিলেন, কে ক্ষমতায় থাকবে, কে ক্ষমতায় যাবে, সেটা আজ বড় কথা নয়। আজ  আমরা যারা আছি, আগামীতে তারা কেউ হয়তো থাকবো না। তাই কালবিলম্ব না করে, আসুন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যকে সামনে রেখে সূত্রের ভাষ্য, সরকারকে বাদ রেখে জাতীয় ঐক্য গঠন অসম্ভব এবং অর্থহীন। এ কারণে বিএনপির ভেতরে ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঐক্যের ফর্মুলার রূপরেখা তৈরি করবেন খালেদা জিয়া। তবে তিনি জঙ্গিবাদ শব্দের স্থলে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রয়োগ করতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা জাতীয় ঐক্যের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিতে চাই। হাইলাইট করতে চাই।  সরকারকে মেসেজ দিতে চাই, এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের কোনও বিকল্প নাই। খালেদা জিয়ার ঐক্যের ফর্মুলার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কিছু তো বৈঠকের পর জানা যাবে। আগে বৈঠক হবে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে।

৩ জুলাইয়ের বক্তব্যে খালেদা জিয়াও ঐক্যের প্রতি জোর দেন।ওই দিন তার লিখিত ভাষ্য ছিল, কোথাও কেউ নিরাপদ নয়। এই আতঙ্ক, এই হত্যালীলা থামাতে হবে। বন্ধ করতে হবে রক্তপাত। আমাদেরকে একতাবদ্ধ হতেই হবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্য মানেই সব দল একত্রে কাজ করা। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সব দলকে এক সারিতে আসা জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারকে বাদ রেখে ঐক্য সম্ভব নয়।

সূত্রের ভাষ্য, কিসের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠন হবে, এ নিয়ে আসন্ন বৈঠকগুলোয় আলোচনা হবে। এই আলোচনায় সাংগঠনিক ও জোটগত মতামতকেও গ্রহণ করবেন খালেদা জিয়া।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে খালেদা জিয়া ঐক্যের আহ্বান করলেও সরকারের পক্ষে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্টো আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের প্রথম শর্ত জামায়াতকে ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ঐক্যের আহ্বান কতটা ফলপ্রসূ হবে, এ নিয়েও আলোচনা আছে বিএনপিতে।

এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, পরিস্থিতির চাপ হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের। আর এই ঐক্যের ভিত্তি কী হবে, এ নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী নির্বাচনকে কতটা সামনে আনা যায়। দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলে যেকোনও অগণতান্ত্রিক শক্তিই পিছিয়ে পড়বে।

সূত্রের ভাষ্য, ঐক্য ফর্মুলায় খালেদা জিয়া প্রথম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্ব দেবেন। এই প্রেক্ষাপটেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের তাগাদা দেবেন সরকারকে। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মামলা, জেল ও হামলা থেকে মুক্ত রাখতে সরকারকে প্রস্তাব দেবেন। সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক দল দমনের যে নীতি, সেটি থেকে সরে আসতেও ফর্মুলায় উল্লেখ থাকবে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া আলোচনার ভিত্তিতে ফর্মুলা প্রস্তাব করবেন। এরপর সরকারের জবাবের প্রত্যাশা থাকবে বিএনপির। এক্ষেত্রে ইতিবাচক হলে শর্তারোপ করা হলেও সেগুলোকেও বিবেচনায় নেবে দলটির নীতিনির্ধারকরা। তবে বিবেচনা থাকলেও পাল্টাপাল্টি বিবেচনার প্রস্তাবও আসতে পারে খালেদা জিয়ার তরফে।

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, হঠাৎ করেই তো আশাবাদী হচ্ছি না। পরিস্থিতির চাপ তো আছে।

সূত্রমতে, জাতীয় ঐক্যের ফর্মুলা প্রস্তাব করতে খালেদা জিয়া খুব বেশি সময় নেবেন না। চলতি সপ্তাহে ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন তিনি। ওই আয়োজনেই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় ফর্মুলা প্রকাশ করবেন খালেদা জিয়া। তবে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি বলে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান। এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আজকের বৈঠকের প্রসঙ্গ এখনও জানি না।

বিএনপির একজন ভাইস-চেয়ারম্যান জানান, বিএনপি, বিশ দলীয় জোট ও সমমনা পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পর জোটের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও ক্রমান্বয়ে বৈঠক করতে পারে। সব দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই একটি জঙ্গিবাদবিরোধী ফর্মুলা দেবেন খালেদা জিয়া। তবে এই নেতার ভাষ্যে কোনও সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে গণফোরামের সভাপতি ও প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। তবে তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কি ধরনের প্রস্তাব রাখেন, তার ওপরে নির্ভর করবে আমাদের অবস্থান।

Print
881 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close