যশোরে ২৮টি খাবারের হোটেল বন্ধ

এক্সপ্রেস ডেস্ক: ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের দাবিতে হোটেল মালিক-কর্মচারীদের টানাপড়েনে যশোরে শহরের ২৮টি খাবারের হোটেল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকপক্ষ। ঈদের আগে বন্ধ করা হয় ১৪টি এবং কয়েক দফা আলোচনায় উদ্ভূত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সর্বশেষ আরও ১৪টি হোটেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এতে কয়েকশ’ শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। একইসঙ্গে ভোক্তারা পড়েছেন বিপাকে। শ্রমিকরা বলছেন, গেজেট অনুযায়ী হোটেল কর্মচারীদের বেতন- বোনাস প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি মালিকরা। উল্টো চাপ প্রয়োগ করে কম বোনাস দিয়ে বেশি লিখে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

শ্রমিকদের আপত্তির মুখে ঈদের আগে গত ৬ জুলাই শ্রমিক-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে হোটেল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক কর্তৃপক্ষ। এতে বোনাস বঞ্চিত শ্রমিক-কর্মচারীরা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। আর হোটেল মালিকপক্ষের দাবি, শ্রমিকরা ঈদের আগের দিন কাজ না করে চলে গেছেন। তাদের মাসিক মজুরির সমহারে বোনাস দাবি অযৌক্তিক।

হোটেল- রেস্তোরাঁর এই সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসক ও শ্রম অধিদপ্তর যশোরের পরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাইজেল ইসলাম ইসলাম জানান, গত ৩০ জুন যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে যশোর হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যশোর হোটেল রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দুইজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যশোর শহরের হোটেল শ্রমিকদের জন্য বর্তমানে শ্রমিক-কর্মচারী যে বেতন পেয়ে থাকেন, সেই প্রাপ্য বেতন থেকে হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত ৪০% ঘরভাড়া, ৩০০/- মেডিকেল ও ২০০/- যাতায়াত ভাতা বাদে বাকি প্রাপ্ত মজুরি মূল মজুরি হিসেবে বিবেচনায় তার সমহারে উৎসবভাতা (বোনাস) ও পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য বলা হয়।

তিনি বলেন, মালিকপক্ষ এটি মেনে নিলেও বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করেননি। উপরন্তু ঈদের আগেরদিন সকালে বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বোনাস প্রদান করে শতভাগ দেওয়া হয়েছে মর্মে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে চান। এতে শ্রমিকরা রাজি না হলে হোটেল মালিকরা তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

এ বাস্তবতায় যশোর শহরের বেশ কয়েকটি হোটেল মালিক শ্রমিকদের উৎসবভাতা প্রদান করলেও যশোর হোটেল- রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতৃত্বে ১৪টি হোটেল মালিক ওই সিদ্ধান্ত মানেননি। ১২ জুলাই তারা জোর করে আরও ১৪টি হোটেল বলপ্রয়োগে বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেন।

এদিকে, সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১১ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সভা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের ন্যায্য বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দিলেও মালিকরা তা বাস্তবায়ন করছেন না।

শ্রমিকনেতা তাইজেল ইসলাম বলেন, মালিকরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। ঈদের আগে বোনাস না দিয়ে হোটেল বন্ধ করে দেয়া খুবই অমানবিক।

তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ (১৩ জুলাই) বিকেলে দড়াটানা ভৈরবে শহিদ চত্বরে সমাবেশ করা হবে।

এ বিষয়ে যশোর হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুকুল হাসান বকুল বলেন, আমরা গেজেটের চেয়ে বেশি বেতন দেই শ্রমিকদের। কিন্তু বোনাস সমহারে দিতে পারি না। চাঁদরাতে তাদের গতবারের হারে বোনাস দিতে চেয়েছিলাম; কিন্তু সকাল ১০টার মধ্যে শ্রমিকরা হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যান।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকরা যদি আসেন- তাহলে আমরা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসতে পারি।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের মজুরি কাঠামো তথা বেতনের সমপরিমাণ বোনাস, ঈদের ৭দিন পরে শ্রমিকদের নিয়োগ ও পরিচয়পত্র প্রদানের দাবিতে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। যশোর সদরে ৬৪টি হোটেল রেস্তোরাঁ রয়েছে। এতে ১৪ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। এবারের ঈদে প্রশাসনের নির্দেশনা মতে ৬টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের মূল বেতনের সমহারে বোনাস দিয়েছে।

Print
1046 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close