সাতক্ষীরায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে খরগোশ পালন

এক্সপ্রেস ডেস্ক: সাতক্ষীরায় খরগোশ পালন করে অনেক বেকার যুবক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব বলে জেলায় বেকার যুবকরা খরগোশ পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে পালন করা হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের খরগোশ। খরগোশ পালনে তেমন কোনো ঝুঁকি না থাকায় খামারের সংখ্যাও বাড়ছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক খরগোশ পালনের খামার গড়ে উঠেছে।
এসব খামারে দেশি-বিদেশি খরগোশ পালন করা হচ্ছে। খামারিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার আজমল হোসেন জানান, তিনি গত ১০-১৫ বছর খরগোশ পালন করছেন। তার খামারে এখন ১৫০-২০০ খরগোশ রয়েছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ছাড়াও জেলার বাইরে থেকে তার খামারে খরগোশ কিনতে আসে। প্রতি জোড়া খরগোশ ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা করে বিক্রি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘খরগোশ পালন খুবই লাভজনক ব্যবসা। খামারের খরচ বাদে প্রতি মাসে তার ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হয়।’ সাতক্ষীরার গোপীনাথপুর গ্রামের প্রদীপকুমার মণ্ডল জানান, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে খরগোশ পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তার বসতবাড়িতে খরগোশ পালন করছেন। দেশি-বিদেশি শতাধিক খরগোশ রয়েছে তার খামারে। সাতক্ষীরাসহ আশপাশে খুবই চাহিদা রয়েছে খরগোশের। তিনি বলেন, প্রতি মাসে এখান থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে তার। সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শশাঙ্ককুমার জানান, খরগোশ পালন খুবই লাভজনক। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে যে কেউ এটি করতে পারে। বিশেষ করে স্বল্প শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা খুব আগ্রহের সঙ্গে খরগোশ পালন করছেন। তাছাড়া খরগোশ শুধু শৌখিনভাবে পালন করা হচ্ছে না। এটি আমিষের চাহিদাও মেটাচ্ছে। এর মাংসতেও রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। তিনি আরো বলেন, প্রতি দুই থেকে আড়াই মাসে খরগোশ বাচ্চা দেয়। প্রতিটি মা খরগোশ একসঙ্গে চার থেকে ছয়টি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। একনাগাড়ে আট বছর যাবৎ বাচ্চা দেয়। এদের গড় আয়ু ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত হয়। তাছাড়া এদের খাদ্য নিয়েও কোনো সমস্যা হয় না।

Print
263 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close