খুলনায় টি-টোয়েন্টি : ৩ ঘণ্টায় টিকিট শেষ!

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: আর মাত্র একদিন বাকি। রাত পেরোলেই শুক্রবার সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে গড়াবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের চার দিনের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বল। চান্ডিকা হাথুরুসিংহে এবং ডেভ হোয়াটমোরের শিষ্যরা মাঠে নামবেন। নিজ শহরে স্বপ্নের এ দৃশ্য না দেখে ঘরে থাকা যায়! এ কারণেই বুধবার রাত থেকে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে চলে টিকেট কেনার প্রতিযোগিতা। নগরীর খানজাহান আলী রোডের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) খুলনা শাখায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এদিকে, বিক্রি শুরুর মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টায় টিকিট শেষ হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকিট না পেয়ে হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা নগরীর খানজাহান আলী রোডের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) খুলনা শাখার সামনে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দর্শকদের অভিযোগ, অধিকাংশ টিকিটই ব্যাংক থেকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিক্রি করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংকের সামনে থেকে শুরু করে খানজাহান আলী রোডের ফেরিঘাট মোড় এবং সাহেবের কবরখানা সংলগ্ন রামচন্দ্র দাস লেন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের ভিড়। সবাই একটাই উদ্দেশ্যে এসেছেন। সেটি হলো টিকিট। কিন্তু সেই কাঙ্খিত টিকিট পাওয়াটা খুব একটা সহজলভ্য হয়নি । মানুষের প্রচণ্ড চাপে লাইন থেকে ছিটকে পড়তে হয় বার বার। আবার যেতে হয় লাইনের পেছনে। এতে হুড়োহুড়ি করতে যেয়ে অনেকেই আহত হন। সামাল দিতে পুলিশকেও খেতে হয় হিমশিম। মাঝে-মধ্যেই পুলিশের লাঠিচার্জ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতির মধ্যে যারা টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন- তারাই হাতে পেয়েছেন কাঙ্খিত সোনার হরিণ!। লাইন থেকে ছিটকে পড়া খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র শাহারিয়ার হোসেন, শাহিন আলম ও সৌরভ দাসসহ কয়েকজন ক্ষোভের সাথে বলেন, তারা খুলনার রূপসা থেকে বুধবার রাত ৯টা থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। এরপর রাত ১১টায় প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কির কারণে লাইন থেকে ছিটকে পড়েন। আবার লাইনে দাড়িয়ে কিছু সামনে এগোলে রাত ৩টায় এবং একইভাবে সকাল ৯টায় কাউন্টারের কাছাকাছি এসেও ছিটকে পড়েন। ফলে তারা টিকেট না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে চলে যান। তবে অপরদিকে নগরীর খালিশপুর এলাকার স্কুল ছাত্র আসলাম, জুয়েল এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির ছাত্রী কাজী জারিন আফরিনসহ কয়েকজন টিকিট হাতে পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত। টিকেট হাতে পেয়ে তারা উল্লাশ প্রকাশ করেন।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) শাখা প্রধান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রথমদিনের খেলার জন্য মোট ৫ হাজার ৭৬৮ পিস টিকেট পেয়েছেন। তবে চাহিদার তুলনায় এ পরিমান খুবই কম। এছাড়া বাড়তি চাপও রয়েছে। যা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, স্ট্যান্ড ১০০ টাকা, ওয়েস্টার্ন ১৫০ টাকা, ক্লাব হাউজ ৩০০ টাকা, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ড ৫০০ টাকা এবং গ্রান্ড স্ট্যান্ড ১০০০ টাকা করে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের চার দিনের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে গেলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও টিকেট না পেয়ে হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নগরীর খানজাহান আলী রোডের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) খুলনা শাখায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকেট সংগ্রহ করতে দর্শকদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ব্যাংকের সামনে থেকে খানজাহান আলী রোডের ফেরিঘাট মোড় এবং সাহেবের কবরখানা সংলগ্ন রামচন্দ্র দাস লেন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকার মধ্যেই দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রথম দিনের টিকেট বিক্রি শেষ হওয়ার খবরে দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

টিকেট না পাওয়া দর্শক বিএল কলেজের ছাত্র রাশেদুজ্জামান, ফারজানা আক্তার প্রিয়া, শেখ রাসেল, সাগর কুমার বিশ্বাস, পলাশ আহসান, মিলন ও জামালসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাইনের দর্শকদের টিকিট না দিয়ে ব্যাংক কাউন্টার থেকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ১০, ২০, ৩০ ও ৫০ পিস করে টিকিট দেয়া হয়েছে। এ কারণে দ্রুত টিকেট বিক্রি শেষ হয়েছে। তা নাহলে  ৫ হাজার ৭৬৮ পিস টিকেট এত দ্রুত বিক্রি সম্ভব না। টিকিটি বিক্রি শেষ হওয়ার কথা স্বীকার করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) কর্মকর্তা শেখ মিজবাহ উদ্দিন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চাহিদা পূরণ করতে হলে কমপক্ষে আরও ১০ হাজার টিকিট প্রয়োজন। কিন্তু সব টিকেট শেষ হওয়ায় বঞ্চিতরা বিক্ষোভ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

Print
878 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close