মার্চের মধ্যে তৃণমূল পুনর্গঠনে বিএনপি

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে আগামী মার্চের মধ্যে জেলা, উপজেলা এবং থানার পুনর্গঠন শেষ করতে চায় বিএনপি। মামলা-গ্রেফতার এবং সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে স্থবিরতা নেমে আসা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে এরই মধ্যে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে হওয়া ওই বৈঠকে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানান, সাংগঠনিক কাজের অগ্রগতি, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং এ সব সমস্যা সমাধানে কী করা যায়- তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া-না নেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে বেশির ভাগ সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও খালি মাঠে ছেড়ে দিতে রাজি নয় তারা। তাদের যুক্তি, নির্বাচনের ফলে তৃণমূল নেতারা প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে। কিছু পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। আর কারচুপির কারণে দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

বৈঠক শেষে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন জানান, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে অর্থাৎ মার্চের মধ্যে অসমাপ্ত জেলা, উপজেলা ও থানাগুলোর পুনর্গঠন শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো কোনো জেলায় পুনর্গঠন শেষ হলেও বেশিরভাগ জেলায় এখনো শেষ হয়নি। দ্রুত পুনর্গঠন শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ওই দিন রাতে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম হান্নান শাহ, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দল পুনর্গঠনের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন বিএনপি নেত্রী। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসমাপ্ত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং দুই দফায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে ফলাফল শূন্য দলটির তৃণমূলকে এখন উজ্জীবিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন দলের সিনিয়র নেতারা। সেজন্য দলের সব পর্যায়ে নতুন কমিটি হলে সাংগঠনিক কাজে গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দলের ষষ্ঠ কাউন্সিল করার চিন্তা ছিল বিএনপির। সেজন্য আগে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ৯ আগস্ট সারাদেশে বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলাকে কেন্দ্র থেকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওই পুনর্গঠনের শেষ হলেই কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। তবে ‘হামলা-মামলা আর গ্রেফতারে’ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিটিগুলো করা সম্ভব হয়নি। পরে মৌখিকভাবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু গ্রেফতার আর মামলায় সেই তারিখেও বেশিরভাগ জেলায় এখনো পুনর্গঠন কাজ অর্ধেকও শেষ করতে পারেনি। এরই মধ্যে পৌর নির্বাচনে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দলের এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে আসে।

দলীয় সূত্র বলছে, মামলা, গ্রেফতার, সর্বোপরি পৌর নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়া পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি এখন দ্রুতই শেষ করতে চায় বিএনপি। কারণ ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ রয়েছে। মার্চে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে দলটি। পুনর্গঠন শেষ হলে এপ্রিলের পরে দলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিল করতে চায় দলটি।

Print
1485 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close