যুদ্ধাপরাধী নিজামী-মুজাহিদের ফ্ল্যাট পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

এক্সপ্রেস ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বাজেয়াপ্ত সরকারি সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, মিরপুরের সাংবাদিক পল্লীতে আরেক যুদ্ধাপরাধী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের প্লটটিও বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হবে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই চার জামায়াত নেতার মধ্যে একাত্তরের খুনি বাহিনী আলবদর নেতা নিজামী, মুজাহিদ ও কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড ইতিমধ্যে কার‌্যকর হয়েছে। আর সাঈদী আছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। তাকে আমৃত্যু বন্দি থাকতে হবে।

বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতার অংশীদার জামায়াতের তিন শীর্ষ নেতা সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে তিনটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেন। এর মধ্যে নিজামী প্লট পান বনানীতে, মুজাহিদ উত্তরায় আর সাঈদী পান পূর্বাচল আবাসিক এলাকায়। আর মিরপুরে সাংবাদিক কলোনিতে প্লট কিনে নেন কামারুজ্জামান। সেখানেও বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বা সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে পুরষ্কৃত করা হয় এমন কোটায় তিন চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধীকে জোট সরকার প্লট বরাদ্দ দেয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। দাবি করা হয় এসব প্লট বাতিলের।

তিন স্বাধীনতাবিরোধী নেতার মধ্যে সাঈদীর পূর্বাচলের প্লটে বাড়ি উঠেনি এখনও। তবে সমালোচনা গায়ে মাখেননি একাত্তরের দুই আলবদর নেতা। জামায়াতপন্থি একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫০:৫০ চুক্তিতে ছয় তলা বাড়ি নির্মাণের চুক্তি করেন তারা। আর দ্রুততম সময়ে বাড়ি উঠে এই দুই স্বাধীনতাবিরোধীর সরকারি জমিতে।

নির্মাণের পর থেকেই বনানীর জে ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর প্লটের বাড়িতে নিজামীর এবং উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর সড়কের পাঁচ নম্বর প্লটের বাড়িতে মুজাহিদের স্বজনরা বাস করতে থাকেন।

বর্তমান সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর আবার স্বাধীনতাবিরোধীদের সরকারি প্লট বাতিলের দাবি উঠে। কিন্তু সরকার এ ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে এবং উচ্চ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করে। সর্বোচ্চ আদালতে তিন জামায়াত নেতার মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ প্রমাণ এবং দণ্ড কার্যকরের পর অবশেষে সরকার তিন জনকে দেয়া সরকারি প্লটই বাতিল করে।

সাঈদীর প্লটে বাড়ি না উঠায় সেটি বাতিলে তেমন জটিলতা নেই। তবে নিজামী ও মুজাহিদের প্লটে বাড়ি উঠায় এবং ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটগুলো অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেয়ায় এই ক্রেতাদের কী হবে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, বাজেয়াপ্ত হবে কেবল দুই আলবদর নেতার ফ্ল্যাটগুলো। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে যারা ফ্ল্যাট কিনেছেন তাদের সম্পত্তি তাদেরই থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দুই যুদ্ধাপরাধীর বাজেয়াপ্ত ফ্ল্যাট ও সম্পদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হবে। কবে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিগগির’।

তিন স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত নেতাকে সরকারি প্লট দেয়ায় বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন গণপূর্ত মন্ত্রী। বলেন, ‘যারা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, গণহত্যা করেছে তারা কেন সরকারি জায়গা পাবে? এটা দেশের জন্য লজ্জাজনক’।

দুই আলবদর নেতা বা সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের আর কোনও সম্পদ আছে কি না, সে বিষয়েও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছে বলেও জানান গণপূর্ত মন্ত্রী। বুধবার মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রণালয়ে সাকা চৌধুরীর নামের আগে যুদ্ধাপরাধী বসবে
মানবতাবিরোধী অপরাধে যাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এরশাদ সরকারের আমলে গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মন্ত্রণালয়ে সাবেক মন্ত্রীদের নাম সম্বলিত বোর্ডে সে নাম এখনও ঝুলছে। ১৯৮৬ সালের ২৫ মে থেকে ওই বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মনে করেন, মন্ত্রীদের তালিকায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম থাকা লজ্জাজনক। তাই বোর্ডে এই দণ্ডপ্রাপ্তের নামের আগে ‘যুদ্ধাপরাধী’ শব্দ লেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘ভবিষ্যত প্রজন্ম মন্ত্রণালয়ে এসে যেন জানতে পারে তিনি যুদ্ধাপরাধী ছিলেন, সে জন্য এটা করা জরুরি’।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধি থাকবে কি না-গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়েও জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লুই আর কানের মূল নকশা বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে। সেই নকশায় যদি কারও কবর থাকে, তাহলে সেটা সেখানেই থাকবে, আর যদি না থাকে তাহলে সরানো হবে।

Print
1058 মোট পাঠক সংখ্যা 5 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close