সন্দেহভাজন জঙ্গী নিবরাস ঝিনাইদহ শহরে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন!

এক্সপ্রেস ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গী নিবরাস ইসলাম পরিচয় গোপন করে ঝিনাইদহ শহরে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। এ নিয়ে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, নিবরাস ইসলামের সঙ্গে মোস্তফাসহ আরো ৭/৮ জন যুবক সোনালীপাড়ার এক বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সোনালীপাড়া মসজিদের ইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া বিভাগের ছাত্র রোকনুজ্জামান তাদেরকে বাসাটি ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করেন। নিবরাস ইসলাম ওরফে সাঈদ গত ২৮ জুন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার মাস সেখানে ভাড়া ছিলেন। বাড়ির মালিক সেনাবাহীনির সাবেক সার্জেন্ট কওছার আলী মোল্লার স্ত্রী বিলকিস নাহার এ সব তথ্য জানান। তবে তিনি নিবরাস ইসলামকে সাঈদ বলে জানতেন।

গত সোমবার একটি বেসরকারী টেলিভিশনের অনুসন্ধান দলের কাছে বিলকিস নাহার নিবরাস ইসলামের ছবি দেখে কথিত সাঈদ বলে সনাক্ত করেন। এরপর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে একদল সাংবাদিক সেনাবাহীনির সাবেক সার্জেন্ট কওছার আলী মোল্লার বাড়িতে যান। এসময় বাড়ির মালিকের স্ত্রী বিলকিস নাহার বলেন, গুলশান হামলায় সন্দেহ ভাজন জঙ্গী নিবরাস ইসলামই সাঈদ। আমি ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ছবির সাথে চেহারার মিল রয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের সোনালীপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় সরকার কেসি বিশ্ববিদালয় কলেজের ছাত্র নওর জামিল বর্ষণ জানান, সাঈদ তাদের পাড়ায় চার মাসের বেশি সময় ভাড়া ছিল। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি হবেন বলে তাদের কাছে জানিয়েছিল। এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সাঈদ তাদের সাথে ফুটবল খেলতেন। তিনি অনর্গল ইংরেজীতে কথা বলতে পারতেন। এ জন্য সবাই তাকে পচ্ছন্দ করতেন।

তিনি আরো জানান, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন জঙ্গীদের ছবি প্রকাশের পর আমরা তাজ্জব হয়ে যাই। তাদের সাথে খেলা করা সেই সাঈদই নিবরাস ইসলাম বলে তারা ছবি দেখে চিনতে পারেন। অপরদিকে জঙ্গী নিবরাস ইসলামকে সহায়তার দায়ে ঝিনাইদহ থেকে ৫জনকে আটক করেছে ঢাকা থেকে আগত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টিম। আটকৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ শহরের সোনালী পাড়ার ঠান্ডু মোল্লার ছেলে কাওছার আলী মোল্লা, তার দুই ছেলে ঝিনাইদহ কলেজের ছাত্র বিনছার আলী, নারিকেলবাড়িয়া কলেজের ছাত্র বেনজির আলী, হামদহ সোনীপাড়া মসজিদের ইমাম ও যশোরের ঝিকরগাছার নায়রা গ্রামের রোকনুজ্জামান ও ছারছিনা মাদ্রাসার ছাত্র আদর্শপাড়া কচাতলা মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের ছেলে হাফেজ আব্দুর রব। গত ৬ জুলাই সন্ধ্যার সময় এদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবী করেন বিসকিস নাহার।

তিনি আরো বলেন, ঈদের দিন তাকেও ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় র‌্যাবসহ একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা তার স্বামী, দুই ছেলে, মসজিদের ইমাম ও তারাবির নামাজের হাফেজকে নিয়ে যায়। বুধবার বিকাল থেকে একটি বেসকরী টিভি চ্যানেলে ঝিনাইদহ থেকে ৫ সন্দেহ ভাজন জঙ্গী আটকের খবর প্রচার করে। এ নিয়ে ঝিনাইদহ সাংবাদিকদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানান, সোনালী পাড়ার সাবেক সেনা সদস্যের ভাড়া বাড়ির সাঈদই যদি জঙ্গি নিবরাস ইসলাম হয়, তাহলে তিনি ঝিনাইদহ থাকা অবস্থায় আলোচিত কয়েকটি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এই হত্যার তালিকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পুরোহিতসহ খ্রীষ্টান হোমিও চিকিৎসক ও শিয়া মতবাদের এক ব্যক্তি খুন হন। এই চারটি হত্যাকান্ডের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রচার করে। যা গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার সাথে মিল রয়েছে।

গত ৭ জুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামের আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী খুন হন। নিহত আনন্দ গোপালের বাড়ি ও নিবরাস ইসলাম ওরফে সাঈদ যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সেই বাসার মালিক কওছার আলী মোল্লার বাড়ি একই গ্রাম বাগডাঙ্গা করোতিপাড়ায়। এ নিয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মাঝে নানা সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নজর ফাঁকি দিয়ে ঝিনাইদহ শহরকে নিরাপদ হিসেবে অবস্থান নেয় সন্দেহ ভাজন জঙ্গীরা। এই অঞ্চলের সাহসী ও উগ্র মনোভাবের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছেলেদের জঙ্গী হিসেবে গড়ে তোলে।

গত ৭জানুয়ারী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটী গ্রামের বেলেখাল বাজারে খ্রীষ্টান হোমিও চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ওরফে সমির খাজা ও ১৪ মার্চ কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা এলাকার শিয়া মতবাদের হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এরপর গত ১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামে স্থানীয় রাধামদন মঠের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাসকে (৬২) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার শেখ জানান, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তিনি বলেন, এদেরকে আটক করার কারণ আমার জানা নেই। তবে ঝিনাইদহ সদর থানার বিদায়ী ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার সন্দেহভাজন জঙ্গী নিবরাস ইসলাম ঝিনাইদহ শহরের ভাড়া থাকতেন।

Print
1181 মোট পাঠক সংখ্যা 5 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close