বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পেলেন নাটোরের পেয়ারা চাষী আতিক

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাণিজ্যিকভাবে কৃষি খামার গড়ে তোলা ও কৃষি কাজে বিশেষ সাফল্যের জন্য নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার সেনভাগলক্ষ্মিকোল গ্রামের আতিকুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে একটি সনদপত্র,ক্রেষ্ট ও রৌপ্য পদক তুলে দেন। কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধীনে বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তহবিল বিভাগ এই বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকের আয়োজন করেন।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী সাইদুল হক এমপি, কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষসহ উর্ধতন কৃষি কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সারা দেশের ২৮ জনকে এই পুরস্কারে ভুষিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলার সেনভাগলক্ষ্মিকোল গ্রামের আবুল হোসেনে ছেলে আতিকুর রহমান এক প্রত্যয়ী তরুণ উদ্যোক্তা।

কৃষিতে উৎসাহিত হয়ে তিনি নিজে একটি নার্সারী স্থাপন করে প্রায় ৩৭ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ চারা উৎপাদন করে তা বিক্রি করেছেন। একই সাথে ৫৩ একর জমিতে পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলদ গাছের বাগান সৃজন করেছেন। তার সৃজিত বাগানে উৎপাদিত ফল-ফলাদি বিক্রয় করে বিগত ৬ বছরে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা আয় করে তিনি একজন বাণিজ্যিক কৃষি উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তাঁর সাফল্যে অনুপ্রানিত হয়ে এলাকার শিক্ষিত বেকার তরুণরা ফলদ গাছের বাগান সৃজনে আগ্রহী হয়েছে, যা সমাজ গঠনমুলক একটি সফল উদ্যোগ। তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্ঠায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি খামার স্থাপনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশ গড়ার এই কৃতিত্বপুর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে এই পদকে ভুষিত করা হয়।

ইতিপূর্বে তিনি ২০১৫ সালে  জাতীয় ফলদ ও বৃক্ষরোপনে দেশের প্রথম পুরস্কার, নাটোর জেলায় সেরা ফল চাষী এবং সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসাবে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজয় দিবসে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আতিকুর রহমান জানান, এই পুরস্কার তাকে কৃষি কাজে আরো অনুপ্রানিত করবে। বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পেয়ে তিনি খুব খুশি। তার এই সাফল্যের জন্য কৃষি বিভাগও অংশীদার।  নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, আতিক কৃষি পদক পেয়ে শুধু নিজেকই ধন্য করেননি। তিনি নলডাঙ্গা উপজেলা তথা নাটোর জেলাকে গৌরবান্বিত করেছেন। এই অর্জন শুধু তার একার নয়, সমগ্র কৃষি বিভাগের।

Print
742 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close