রেলগেটে আ’লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমাবাজি অগ্নিসংযোগ

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোর শহরের রেলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, মুহুর্মুহু বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একটি পক্ষের মুরগির খামারে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এতে সহস্রাধিক মুরগির বাচ্চা পুড়ে যায়। এছাড়া উভয় পক্ষের হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশের চারটি টিম ঘটনাস্থলে গেলেও পুলিশ হামলার সাথে জড়িতদের কাউকে আটক করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের রেলগেট এলাকার আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। রেলগেট কলাবাগান এলাকার আওয়ামী লীগের কর্মী সাগরের পক্ষের লোকজন পর পর ২৪টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, কলাবাগানের ফায়েক আলীর ছেলে সাগর ও কানা বাশারের ছেলে তুহিন শুক্রবার বিকেলে রেলগেট এলাকায় মিষ্টি কিনতে যায়। এসময় তাদের ধরে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী তরিকুল, মরাসহ তাদের লোকজন। এরপর সাগর ও তুহিনকে রেলগেট আওয়ামী লীগ অফিসের পাশে নিয়ে মারপিট করে। খবর পেয়ে সাগরের ভাই রমজানের নেতৃত্বে রবিউল, টুটুল, বিপুলসহ বেশ কয়েকজন এসে আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা চালায় এবং সাগর ও তুহিনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে তারা আওয়ামী লীগের কর্মী সাহিদুলের বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানেও তারা বোমাবাজি করে। এতে সাহিদুলের বাবা, মা ও ভাই আহত হন। এর প্রতিশোধ হিসেবে তরিকুল ও মরার লোকজন সাগরের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা সাগরের বাড়ির মধ্যে থাকা একটি মুরগির খামারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে খামারে থাকা সহস্রাধিক মুরগির বাচ্চা পুড়ে যায়। এছাড়া ওই সময় সাগরের মা রেখাও আহত হন বলে জানা গেছে।
এদিকে সাহিদুল জানান, সাগর, তার ভাই রমজানসহ তাদের লোকজন এলাকায় চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। স¤প্রতি তারা কলাবাগান এলাকার মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে ইমন, লুৎফর রহমান, অসিৎ বরণ মন্ডলের কাছে দুই লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। এরা সকলেই নতুন বাড়ি করছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ইমাম বাবলুর কাছে অভিযোগ দেন। এরপর সাগর ও তার লোকজনকে ডেকে সতর্ক করা হয়। এমনকি তাদের কাজ দেয়ার কথা বলা হয়।
সাহিদুল আরো বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে সাগর ও তুহিন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে আসে। এসময় তারা বলে, ৫শ’ লোক নিয়েও তাদের ঠেকানো সম্ভব নয়। এসময় কথাকাটাকাটি হলে তুহিন ফোন করে লোকজন ডেকে আনে। এরপর রমজানের নেতৃত্বে ৪/৫জন এসে বোমাবাজি করে। চলে যাবার সময় তারা আমার (সাহিদুল) বাড়িতেও হামলা করে। সাহিদুলের পিতা বেল্লাল হোসেন জানান, সাগর, রমজান ও তুহিনসহ বেশ কয়েকজন তার বাড়িতে যায়। এসময় তুহিন তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাখে মারপিট করে। এরপর তারা বাড়ির ভিতরে কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বাড়িতে ভাঙচুর করে। বোমার স্পিন্টার লেগে তিনি, তার স্ত্রী ছায়রা বেগম ও ছেলে রফিকুল আহত হন।
এদিকে কলাবাগানে সাগরের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মুরগির খামারটিতে প্রতিপক্ষরা আগুন ধরিয়ে দিলে আতঙ্কে সবাই সটকে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলেও তার আগেই খামারটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দুই পক্ষের হামলার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে যান সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা ও কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি শেখ গণি মিয়াসহ চারটি টিম। তবে তারা কাউকে আটক করতে পারেনি। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি শেখ গণি মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাননি। তবে পুলিশ আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।
Print
1002 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close