যশোরে ভিন্নধর্মী আয়োজন খেজুর গুড় শিল্প মেলায় প্রাণের ছোঁয়া

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: “ঠিলে ধুয়ে দে বউ গাছ কাটতি যাব” এ গানের সুর, মঞ্চ সজ্জায় খেজুর গাছের পাতায় বানানো পাটির ব্যবহার, আঁকা ছবি আর আলোকচিত্রে খেজুর গাছের ছবি, দিনভর খেজুর গুড়ের তৈরী পিঠা প্রদর্শনী ও খাওয়া, সে সঙ্গে চলছিল খাঁটি খেজুর গুড়ের কেনাবেচার ব্যবস্থা। পিঠা স্টলে হরেক রকম পিঠার পসরা সর্বত্রই ছিল যশোরের হারানো ঐতিহ্যকে আবারও মনে করিয়ে দেয়ার নিরলস চেষ্টা। আর তাই ব্যস্ত নাগরিক জীবন যাপন করলেও ঐতিহ্যর প্রতি ভালোবাসা থেকে আয়োজক কিংবা আমন্ত্রিত অতিথিরা তাই দিনব্যাপী এ উদ্যোগ সফল করে তুলেছিলেন।
“আবারও ফিরে এসো খেজুর বাগান” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট যশোর শনিবার তাদের নিজ সংগঠন প্রাঙ্গনে আয়োজন করে দিনব্যাপী খেজুর গুড় শিল্প মেলা। মেলা উপলক্ষে এদিন চারুপীঠ প্রাঙ্গনে চলে খেজুর রস, গুড়, পাটালী, গুড়ের তৈরী পিঠা পায়েস, মিষ্টান্ন প্রদর্শনী ও বিপণন, এছাড়া ছিল “এসো আঁকি খেজুরবাগান” শীর্ষক শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং “রস আর্ট অব উইন্টার” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বাউল গান ও আলোচনা অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। ১শ’ শিশু এতে অংশ নেয়। ৪টি বিভাগে বিজয়ী শিশু শিল্পীরা হল, সুমাইয়া আক্তার, নামিরা, নারিন, রাজ্য, সৌদ, আজিম, শানিকা, তুর্জ, মারুফ, সামিউল, অনন্যা, শাকিল হাসান, মুমু, সুইটি, জাবিন, নভেরা। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ৮জন শিল্পী অংশ নেন। ২০টি আলোকচিত্র এতে স্থান পায়। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন জাহরিনা আলী আফরোজ জিনিয়া, এম আর হাবিব ও দৈনিক গ্রামের কাগজের ফটো জার্নালিস্ট নূর ইমাম বাবুল। ৯ টি স্থল মেলায় অংশ নেয়। জয়তী সোসাইটি, ফ্যাশন হাউজ ফোঁড়, উঠোনবাড়ী, কুটুমবাড়ী, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পিঠা ঘর, তৃণাঙ্কুর ছাড়াও তিনটি স্থল এতে অংশ নেয়। প্রায় ৮০ রকম পিঠা প্রদর্শন করে স্টল গুলো। অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করেন সাঁইজি মুজিদ ও তার দল।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ডক্টর হুমায়ুন কবীর। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ, চারুপীঠ অধ্যক্ষ মাহবুব জামাল শামীম, স্থপতি কাজী আনিস উদ্দিন ইকবাল, কৃষিবিজ্ঞানী সিরাজুল ইসলাম, কৃষিবিদ সুনীল কুমার রায়, ইছালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মতলেব বিশ্বাস প্রমূখ।  প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম খান বলেন, খেজুর রস আহরনের সাথে সংশ্লিষ্ট কথা আমাদের যশোর অঞ্চলের ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, খেজুরের জেনেটিক্যালি উৎপাদনের মাধ্যমে একই সাথে রস ও মধ্য প্রাচ্যর মতো মানের খেজুর উৎপাদন করে পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। টিস্যুকালচারের মাধ্যমে এ বিষয়ে তিনি কৃষিবিজ্ঞানীদের ব্যাপক গবেষণার আহবান জানান। সেই সঙ্গে ন্যাচারাল মিউজিয়াম তৈরীর মাধ্যমে খেজুর গাছের প্রসারের বিষয়ে রাষ্ট্র,  প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান সামাজিক উদ্যোক্তাসহ সকল মানুষকে অনুরোধ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ডক্টর হুমায়ুন কবীর বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৪০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে। টার্গেট রয়েছে আগামীতে ১লাখ খেজুর চারা প্রদানের। এছাড়া যশোরের খেজুর শিল্প বাঁচাতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রজেক্ট আকারে পেশ করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সচেতনতা তৈরীতে আগামীতে রাজধানীতে এ ধরনের একটি আয়োজন করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন অর রশীদ ও চারুপীঠের সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুনুর রশীদ।
Print
1551 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close