ডিজিটাল যুগে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এনালক চিকিৎসা সরঞ্জাম॥

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: নিত্যনতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে চিকিৎসা সেবার মান প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সহজলভ্য হচ্ছে বিভিন্ন জঠিল রোগের চিকিৎসা। কিন্তু পুরোনো এক্সে-রে, আল্ট্রাসনো মেশিন আর প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি মাধমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে যশোর জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম। এমন পরিবেশেই গত বছর এই হাসপাতাল থেকে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের চার লাখ ৫৭ হাজার ৯২৭ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে মারা গেছেন দুই হাজার ২১ জন। এই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালটিতে প্রায় ছয় জন রোগী মারা যান। একই সময় অনেক চিকিৎসকের আন্তরিকতায় অসংখ্য রোগী ভাল সেবাও পেয়েছেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে যশোর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়। তবে শয্যা সংখ্যা পাড়লেও বাড়েনি চিকিৎসকের সংখ্যা। ২৫০ শয্যার জন্য ৯৮ জন চিকিৎসকের প্রয়োজনীতা থাকলেও বর্তমানে সৃষ্ট পদ রয়েছে ৭২টি। যার মধ্যে এখনও শুন্য আছে ২০টি পদ। এছাড়া আগের যন্ত্রপাতির স্থলে কোন আধুনিকমানের চিকিৎসা যন্ত্র সংযোগ করা হয়নি। যা আছে তার মধ্যেও অনেক অকেজ হওয়ার পথে। তবে গত বছর হাসপাতালটির সেবিকা সংকট নিরসন হয়। যদিও সেই অনুযায়ী সেবার মান বাড়েনি বলে চিকিৎসাসেবীদের অভিযোগ। গত বছরের ১৭ মে অপারেশন পরবর্তী সেবা না পেয়ে খাদিজা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. এনকে আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু এখনো সেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়নি।

গত বছর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইয়াকুব আলী মোল্ল্যা। তিনি ১৭ আগস্ট হাসপাতালে ১২টি সিসি ক্যামেরা সংযোজন করে হাসপাতালের সার্বিক কার্য্যক্রম তদারকি শুরু করেন। চালু করেন ডিজিটাল হাজিরা ও বহিঃবিভাগের জন্য সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার। আর জুন মাসে গর্ভবতী রোগীদের জন্য গাইনি বিভাগে যুক্ত হয় এ্যাকলেমসিয়া রুম। এছাড়া অপারেশন পরবর্তী সময়ে রোগীদের নিবিড় পরিচর্যার জন্য পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এখনো সেই কাজ শেষ হয়নি। তবে এত সব সংকটের পরেও অনেক জটিল রোগেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এই হাসপাতালে। ২৫ জুলাই এই হাসপাতালে দশরথ মল্লিক নামে এক রোগীর কিডনির সফল অস্ত্রপচার (সার্জারি) হয়।

হাপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫ সালে চার লাখ ৫৭ হাজার ৯২৭ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। এরমধ্যে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছিলেন ৬৯ হাজার ১১২ জন। এছাড়া জরুরি বিভাগ থেকে ৩৫ হাজার ২৬২ ও বহিঃবিভাগ থেকে তিন লাখ ৬২ হাজার ৪০৫ জন রোগী সেবা নেন। যাদের মধ্যে দুই হাজার ২১ জন মারা যান।

হাসপাতালের উপপরিচলক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বলেন, সরকারিভাবে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বরাদ্দ কম। এনালক মেশিন দিয়ে চিকিৎসকদের সেবা দিতে হচ্ছে। অপারেশন রুমে ইউরোলজি রোগীদের আলাদা কোন ব্যবস্থা নেই। তারপরেও চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় গতবছর প্রথমবারের মতো হাসপাতালে কিডনি রোগীর জটিল আপারেশন করা হয়।

Print
1093 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close