মুস্তাফিজ সাব্বিরের দুর্দান্ত বোলিং দাপটে বাংলাদেশের বড় জয়

স্পোর্টস ডেস্ক: জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পার্থক্যটা কি সেটাই বুঝিয়ে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান এবং সাব্বির রহমান। এ দু’জনের অসাধারণ নৈপুন্যে দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে টাইগারদের। প্রথম ম্যাচে চার উইকেটে জয়ের পর রোববার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামেও চওড়া হাসি মাশরাফিদের। দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচেও দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী জিম্বাবুয়েকে এদিন ৪২ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক শিবির। এই জয়ের ফলে চার ম্যাচের টি২০ সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজ জয় এখন সময়ের ব্যাপার। তৃতীয় ম্যাচে জয় এলে টাইগারদের চোখ থাকবে তখন হোয়াইটওয়াশে।

১৬৭ রানের চ্যালেঞ্জটা নেহায়েত ছোট নয়। তবে খুলনার উইকেট যেহেতু স্পোর্টিং, সে কারণে জবাব দিতে নেমে খুব ভালোই ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ভুসি সিবান্দা এবং হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ওপেনিং জুটিতে এ দু’জন মিলে ৫০ রান তুলে ফেলেছিলেন মাত্র ৬.৪ ওভারেই। দু’জনই যখন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করছিল, তখনই আঘাতটা হানলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলেই ভুসি সিবান্দাকে সরাসরি বোল্ড করে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি।

১৭ বলে ২১ রান করা সিবান্দাকে সরাসরি বোল্ড করলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ২টি বাউন্ডারির সঙ্গে ১টি ছক্কাও মেরেছিলেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার। বাংলাদেশের সামনে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকেও বেশিক্ষণ টিকতে দিলেন না আর সাব্বির রহমান। মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিতে তাকে বাধ্য করেন সাব্বির। ২৮ বলে ৩টি বাউন্ডারি আর ২টি ছক্কায় ৩০ রান করেন মাসাকাদজা।

তৃতীয় উইকেটে শন উইলিয়ামস আর আর মুতুম্বামি জুটি বাধেন। তবে এটাও খুব বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র ১০ রানের জুটি গড়ার পর শন উইলিয়ামসের উইকেট তুলে নেন শুভাগত হোম। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শুভাগত। বাংলাদেশি বোলারদের আগ্রাসণ অব্যাহত থাকলো এরপরও। দলীয় ৬৮ রানের মাথায় মুতুম্বামিকে ফেরালেন সেই সাব্বিরই।

দ্রুত চার উইকেট পড়ার পর অবশ্য জিম্বাবুয়ের তরী টেনে তীরে নেয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন পিটার মুর এবং ম্যালকম ওয়ালার। দু’জন মিলে ৩৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের সামনে ভালোই হুমকি তৈরী করেছিলেন; কিন্তু এই হুমকি বেশিক্ষণ টিকতে দিলেন না পেসার আল আমিন হোসেন। ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি ফুলটস দিয়েছিলেন আল আমিন। তাতে ছক্কা মারেন ওয়ালার।

পরের বলেও ফুলটস দিলেন বাংলাদেশের পেসার। তাতে কিন্তু বোকাই বনতে হলো জিম্বাবুয়ের মারমুখি এই ব্যাটসম্যানকে। আবারও ছক্কা মারতে গিয়েছিলেন তিনি। তাতে বরং, বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দিলেন ওয়ালার এবং ধরা পড়লেন সৌম্য সরকারের হাতে। ফলে ২১ বলে পতন ঘটে গেলো ২৯ রানের একটি ইনিংসের। ১০৫ রানে পড়লো জিম্বাবুয়ের ৫ম উইকেটের।

১৬তম ওভারে ম্যালকম ওয়ালার ফিরে যেতেই দারুন বিপদে পড়লো জিম্বাবুয়ে। এক ওভারেই তাদের জয়ের সব আশা নস্যাৎ করে দিলেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথমে মাদজিবাকে দুই বল বিরতি দিয়ে পিটার মুরকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখালেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। এক ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে পুরোপুরি ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন মুস্তাফিজ।

Print
1126 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close