পাল্টাপাল্টি ঘোষণায় আবারো ভাঙনের মুখে জাতীয় পার্টি

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: আবারো ভাঙনের মুখে পড়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে চারদলীয় জোট গঠনের পর এরশাদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ওই জোট থেকে বের হয়ে যান। দল ছেড়ে জোটের ঐক্য ধরে রাখেন মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জু। গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। তিনি নিজেকে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটে থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যান। এরপর এরশাদের দল ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন তার সরকারের মন্ত্রী মতিন, জেপি গঠন করেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (বর্তমান পরিবেশ মন্ত্রী)।

এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় জাতীয় পার্টি থেকে আবার বের হয়ে গেলেন দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ। তিনিও নাজিউর রহমান মঞ্জুরের মতো নিজেকে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে। কাজী জাফরের সঙ্গে প্রেসিডিয়ামের বেশ কয়েকজন সদস্যও এরশাদকে ছেড়ে চলে এসেছেন।

গতকাল এরশাদ ছোট ভাই জিএম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা দেয়ার পর আজ আবার নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি। আর এবারের ভাঙনের সূচনা হয়েছে এরশাদের ঘর থেকেই। সাবেক এই রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন নিজেকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ভাঙনের সূচনা করেছেন।

রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত দলটির আরেক সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলুর বিরুদ্ধে এরশাদ ও তার ভাই জিএম কাদের এবং জাতীয় পার্টির ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

এরশাদের ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন চাপের কারণে এরশাদ দীর্ঘ দিন মুখ খুলতে পারছেন না। পার্টির সব কিছু তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এমনটা বুঝতে পেরে রোববার ছোট ভাই জিএম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে এরশাদের অবর্তমানে জিএম কাদের দলের দায়িত্ব নেবে এমন ঘোষণাও দেন এরশাদ।

জানা গেছে, এরশাদের এ ঘোষণার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন রওশন ও তার অনুসারীরা। ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব জিএম কাদেরের হাতে চলে যাবে এমন আশঙ্কা থেকেই রওশন ও তার অনুসারী প্রেসিডিয়ামের সদস্যরা বসে রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পরামর্শ দেয়। ফলে বিকেল ৫টায় রওশন নিজের বাসায় একটি বৈঠক ডাকেন। এ বৈঠক চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে রওশন নিজেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন।

তবে, রওশনের এ ঘোষণার পর পরই এরশাদ এবং জিএম কাদের গণমাধ্যমকে বলেছেন, রওশন নিজেকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করা অবৈধ। পার্টির চেয়ারম্যান ছাড়া অন্য কেউ প্রেসিডিয়ামের বৈঠক ডাকতে পারে না বলেও এরশাদ ও জিএম কাদেরের দাবি। এদিকে, রওশন নিজেকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবির ঘোষণার পরই জাপা নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাপার প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী এসব কী যে শুরু করেছে এটা তারাই ভাল বলতে পারবেন। তিনি বলেন, রওশন ম্যাডাম এখন যা করছে সবই আনিস-বাবলুর কু-পরামর্শে করছে। শুধু দলীয় পরিচয় নয়, এরশাদ যে তার স্বামী এটাও তাকে মনে রাখতে হবে। এরশাদ মানে জাতীয় পার্টি আর জাতীয় পার্টি মানেই এরশাদ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Print
1364 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close