পদ্মার চরজুড়ে সোনামুগ-মাষকলাই

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরে শত শত একর জমিতে ছড়িয়ে রয়েছে সোনামুগ ও মাষকলাই ফসল। আর মাত্র কদিন পরই কৃষক ঘরে তুলবেন এসব ফসল। তাই খুশি চরের চাষিরা। বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত পদ্মার চর থেকে আশ্বিন মাসে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্দমাক্ত জমিতে বিনা চাষে বপন করা হয় মাষকলাই ও সোনামুগ।

এবার চরভদ্রাসন ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা চর, এমপি ডাঙ্গী চর, টিলারচর, হাজীডাঙ্গী চর ও গোপালপুর মৌজায় প্রায় ২৭০ একর জমিতে বপন করা হয়েছে মাষকলাই ও সোনামুগ। এ ছাড়া চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের চর তাহেরপুর, চর মির্জাপুর, চর কল্যাণপুর, চর কালকিনিপুরের প্রায় ৪৩০ একর জমি, চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর, ভাটি শালেপুর, পশ্চিম শালেপুর, পূর্ব শালেপুর, আমিনখার চর, ছমির বেপারীর চরে প্রায় ৫৫০ একর জমি। গাজীরটেক ইউনিয়নের চর মোহনমিয়া, মাঝিডাঙ্গী, কদম মাতুব্বরের ডাঙ্গী চরসহ নতুনডাঙ্গী চরের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২৫০ একর জমিতে বপন করা হয়েছে মাষকলাই ও সোনামুগ।

আসছে পৌষ মাসেই উপজেলার হাট-বাজারগুলো নতুন মাষকলাই ও সোনামুগে ভরে যাবে। খুব অল্প খরচে কৃষকরা এ ফসলটি ঘরে তুলবে বলে জানা গেছে। চর হরিরামপুর ইউনিয়নের শালেপুর চরের কৃষক শফি বিশ্বাস বলেন, ‘ছয় বিঘা জমিতে মাষকলাই ও মুগ ফসল বপন করেছি। এ বছর ফসলটি খুব ভালো হয়েছে, অন্তত ৫০ মণ মাষকলাই-মুগ পাব বলে আশা করছি।’‘কৃষি ফসলের মধ্যে এ ফসলটি খুব স্বল্প খরচে উৎপাদন করতে পারি এবং আমরা লাভবান হই।’ বলেন আরেক কৃষক হালিম শেখ।

চরের কৃষকদের জানান, বিনা চাষে ও সার প্রয়োগ ছাড়াই ফসলটি আবাদ করতে পারায় বীজের মূল্য ছাড়া কোনো খরচই নেই কৃষকের। এতে অধিক লাভবান হয় তারা। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন মুগ ও মাষকলাই উৎপাদিত হবে।

Print
881 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close