অধ্যাপকের হাতে রক্তাক্ত ক্যাম্পাস

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: কিছুদিন আগেই একটি গাড়ি কিনেছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। গাড়ি নিয়ে তার শখটাও ছিল বেশ। আর সেই শখের বশে চালককে তার আসনে বসিয়ে তিনি হাতে নেন গাড়ির স্টিয়ারিং। আর তাই ড্রইভিং লাইসেন্সহীন সেই অধ্যাপকের গাড়িচাপায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষক ভগ্নে ও তার মামার রক্তে রক্তাক্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথ ‘এককিলো রোড’।

নিহত সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শেখ আতাউর রহমান (৫৫) ও তার মামা মো. গিয়াস উদ্দিনের (৭০) সাথে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষকের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে নগরীর দ্বীপ শিখা স্কুলের ছাত্রী রাহিবা রহমান (১৪) আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। নিহত দু’জনের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কাইট্টা গ্রামে।

ড্রাইভিং সিটে বসা শাবিপ্রবির ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগী গাড়ির ড্রাইভার আবুল কালাম আযাদও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে আহতদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এলাকাবাসীদের একজন শহরতলীর বড়গুল এলাকার আব্দুল আলিম। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘গাড়িটি খুব দ্রুতবেগে এসে পথচারী তিনজনকে ধাক্কা দেয়। প্রথমে একজন, পরে দু’জনসহ তিনজনকে একসাথে নিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সাথে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যু হয়। এসময় ডাইভিং সিট থেকে অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলামকে এসে গাড়িটি টেনে হিচড়ে পাশে সরাতে দেখেছি। আর গাড়ির ভেতরে থাকা ড্রাইভার আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কাতরাচ্ছিলেন।’

আলিম বলেন, ‘আমি পাশ দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলাম। আশপাশের আর কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে চাইলো না। তাই আমিই আহতদের নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। এছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আমার একার পক্ষে।’ আহত গাড়িচালক আবুল কালাম আযাদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত চালকের আসনে আমি নিজিই ছিলাম। কিন্তু সদ্য গাড়িটি কেনা স্যার (অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম) আমাকে চালকের আসন ছেড়ে দিতে বলেন। তিনি ক্যাম্পাসের রাস্তাটুকু চালিয়ে যাবেন বলে জানান। তাই আমি পাশে বসাছিলাম আর উনি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং এরপর আর কিছুই আমার মনে নেই।’ ওই শিক্ষক সবেমাত্র গাড়ি চালানো শিখছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন গাড়িচালক আবুল কালাম আযাদ।

এদিকে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস এ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এসি কামরুল ইসলাম। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যতোটুকু জানি ওনার (অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম) কোনো ডাইভিং লাইসেন্স নাই। উনি মাত্র গাড়ি চালানো শিখছিলেন।’

তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে বারবার ফোন দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাসনের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপরে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপিই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম কয়েকদিন আগেই গাড়িটি কিনেন। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রে ২০-৪০০৯। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় গাড়িচালক আবুল কালামকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখ ‘এক কিলো রোড’-এ ড্রাইভিং শিখতে যান। এ সময়ই তার গাড়িচাপায় দু’জন নিহত ও তিনজন আহত হন।

Print
1290 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close