আরও দুই-তিন দিন চলবে শৈত্যপ্রবাহ

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: সারাদেশে মাঘের শীতের সঙ্গে যোগ শৈত্যপ্রবাহ হয়েছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরও দুই থেকে তিন দিন চলবে। চলতি মাসের শেষ দিকে এই শৈত্যপ্রবাহ কমে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুসারে- রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও সীতাকুণ্ডে এই শৈত্যপ্রবাহের দাপট সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে।

রোববার চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা সবচেয়ে কম বলে জানা গেছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে চুয়াডাঙ্গার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতের তীব্রতা মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে শীতজনিত রোগ-বালাই। কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা দুর্ভোগে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার সন্ধানে বের হতে হচ্ছে তাদের। দিনের বেলাতেই অনেককে ছেঁড়া কাগজ ও পুরোনো কাপড়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা পুরোনো বাজারের এক নৈশপ্রহরী বলেন, ‘বহুদিন পর অ্যারাম জাড় দ্যাকলাম। জাড় লাগলি নিজিই রোগী হয়ে যাবুনি।’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীদের ভিড় দেখা গেছে। শিশু বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স মালেকা বেগম বলেন, ওই ওয়ার্ডে ১৩ শয্যার বিপরীতে ৫২টি শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এসব রোগীর বেশির ভাগই শীতজনিত নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত ছয় হাজার কম্বল বিলি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস জানান, বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের পরিমাণ খুবই কম। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বীদের শীতার্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Print
814 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close