জঙ্গি ইস্যুতে বেকায়দায় সরকার!

এক্সপ্রেস ডেস্ক: দেশে সম্প্রতি পর পর জঙ্গি হামলা ও বিদেশি নাগরিক হত্যা এবং আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ এর পর নড়ে চড়ে বসেছে সরকার। হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার বেকায়দায় ফেলেছে সরকারকে। এমনটাই মত রাজনীতি বিশ্লেষকদের।

আন্তর্জাতিক চাপের গ্যাঁড়াকল এড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে এসব হামলায় আইএস এর কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে গুলশান হামলা চলাকালীন সময়ে আইএস তাদের ওয়েবসাইট হামলাকারীদের যে ছবি প্রকাশ করে এবং পরবর্তীতে তা মিলে যাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন। যে কারণে জঙ্গি ইস্যুতে এক প্রকার বেকায়দায় আছে সরকার।

এদিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনের প্রাণহানী এবং এর মাত্র পাঁচদিন পর দেশের সর্ববৃহত ঈদের জামাত শোলাকিয়ার ঈদগাহের নিকটে জঙ্গি হামলায় হতাহতের ঘটনায় সারাদেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। এ ইস্যুতে বাংলাদেশও বড় ইমেজ সংকটের মধ্যে পড়েছে।

অপরদিকে দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তাররোধে জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা স্পষ্ট করেই বলেছেন বিএনপি জামায়াতকে না ছাড়লে তাদের সঙ্গে ঐক্য হবে না। এই প্রেক্ষিতে সরকারকে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

গতকাল ১৭ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, জঙ্গি ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত হচ্ছে, তাই জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বিএনপি আগ্রহী। একই বিষয়ে ১৬ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, বাংলাদেশের প্রায় সকল বিরোধীদল জঙ্গি ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা একটি দুরূহ কাজ। তবে জাতির এমন বিপদের দিনে সব মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।”

অপরদিকে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দলের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ঐক্য হবে না। তাদের জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে কথা বলতে হবে”।

জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় আশ্বাসের বাণী বাদ দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় দেশের সাধারণ মানুষ। সরকার যদি সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় তা হলে দেশবাসীকে আরো কঠিন মূল্য দিতে হবে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

এ বিষয়ে বর্তমান বাস্তবতা ও আগামীর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “প্রথমত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা দেশের শত্রু। আর এদের নির্মূল করতে হলে সরকারকেই প্রথমে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের উদাসীনতা একেবারেই কাম্য নয়। এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আচরনেরি ঊর্ধ্বে এসে দেশের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনায় রাখাই প্রয়োজন”। “জাতীয় সন্ত্রাস নির্মূলে দল মতের ঊর্ধ্বে এসেই সম্মিলিত প্রতিরোধই কার্যকর বলেও জানান তিনি”।

অপরদিকে সরকারের বেকায়দার বিষয়টি মানতে নারাজ ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, “সরকারকে বেকায়দা ফেলার জন্য প্রতি নিয়তই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা কাজ করে যাচ্ছে। এর সাথে কিছু কিছু আন্তর্জাতিক মহলও চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে যেন ইরাক, আফগানিস্তান বানানো যায়। তবে এই চেষ্টা সফল হয়নি। আজকেই দেখেছেন আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। শীগ্রই এর মূল উতপাটন করা হবে”।

“বিএনপি জামাতের সঙ্গ ছাড়লে তাদের সাথে ঐক্য করা যেত। কিন্তু তারা তা না করায় দেশের মানুষকে সাথে নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার এই জঙ্গিদের নির্মূল করছে।”

প্রসঙ্গত, আজ রাজধানীর কল্যাণপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহতের খবর জানায় পুলিশ। তাতক্ষণিক প্রতিকৃয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অভিযানে সম্ভাব্য বড় হামলা থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছেন। তবে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সরকার এই দ্রুতই দেশ থেকে নির্মূল করবে জঙ্গিবাদ। তবে এর জাঁতাকলে যেন সাধারণ মানুষকে পৃষ্ট কিংবা হয়রানি হতে না হয় সে বিষয়টি একই রকম গুরুত্বের।

Print
430 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close