দেশ গড়তে হলে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর আব্দুস সাত্তার বলেছেন, মানব কল্যাণে বিজ্ঞানকে যত বেশি কাজে লাগানো যাবে দেশ তত এগিয়ে যাবে। উন্নত স্বনির্ভর দেশ গড়তে হলে স্বপ্নবিলাসী হলে হবে না তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্বপ্নকে বাস্তব করার নাম বিজ্ঞান। মুক্তি সংগ্রামের সময়ে যে স্বপ্ন ও চেতনা নিয়ে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছি। সেই অসা¤প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক একটি দেশ গড়তে হবে। নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরে বিরাজমান নানান সমস্যা সমাধান করে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশ হতে দেশের প্রতিটি মানুষের এগিয়ে আসতে হবে।

‘টেকসই উন্নয়নে চাই টেকসই প্রযুক্তি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া ৩৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।  জিলা স্কুলে অনুষ্ঠিত এ সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সাবিনা ইয়াসমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম।  অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি ভিসি আরো বলেন, আমাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিজ্ঞানকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে দেশ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও অসা¤প্রদায়িক একটি দেশ চাই আমরা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তিনি সকলকে কাজ করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অদিতি গোলদার, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ফারিয়া জামান ও শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইম হাসান মুন দৈনন্দিন জীবন ও রাষ্ট্রে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। জুনিয়র গ্রুপের প্রকল্প প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইম হাসান। তার প্রজেক্ট ছিল ড্রোন। দ্বিতীয় ওয়ালীউল্লাহ তিনি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। তার প্রজেক্ট ছিল গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন। লো কস্ট ইনকিউবেটরের জন্য তৃতীয় হন যথাক্রমে নাসিব হাসান খান ও আবু জার গিফারি জুবায়ের। সিনিয়র গ্রপের প্রকল্প প্রদর্শনীতে প্রথম হন যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জাহিদুল হাসান তার উদ্ভাবিত প্রকল্প ছিল এনার্জি সেভিং। দ্বিতীয় হন মুসলীম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মাজিদুল হাসান। তার উদ্ভাবিত প্রকল্প ছিল ডিজিটাল সোলার সিস্টেম। মোবাইল ফোন কন্ট্রোল হোম এপ্লিকেশন প্রকল্পের জন্য তৃতীয় হন মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তন্ময় রায়। বিশেষ ক্লাব ও ব্যক্তি ক্যাটাগরির প্রকল্প প্রদর্শনীতে প্রথম হয়েছেন রংধনু বিজ্ঞান ক্লাবের আবুল কাশেম। তার উদ্ভাবিত প্রকল্প ছিল হেভী থ্রেড কাটার। ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মিজানুর রহমান দ্বিতীয় হয়েছেন। তার প্রকল্প ছিল ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সেচ পদ্ধতি। তৃতীয় হন জুঁই চামেলী বিজ্ঞান ক্লাবের এ জেড এম আহাদ। স্বল্প খরচে বিদ্যুত উৎপাদন ছিল তার উদ্ভাবিত প্রকল্প।
জুনিয়র গ্রুপের উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম হন যুগ্মভাবে জিলা স্কুলের সামিয়াতুল খান ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ফারিয়া সুলতানা অমি, দ্বিতীয় জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান। তৃতীয় হন যুগ্মভাবে পুলিশ লাইন স্কুলের অদিতি গোলদার ও তাসনীম জারিন ইমরান। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম হন জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস। দ্বিতীয় আশিকুর রহমান। তৃতীয় সামিয়াতুল খান। রানার আপ হয়েছে পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সিনিয়র গ্রুপের উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম হন সরকারি এম এম কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদা ইয়াসমিন অপি, দ্বিতীয় সাদিয়া আমরিন, তৃতীয় আজহার উদ্দিন গাজী আর্জু। রানার আপ হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সিনিয়র গ্রুপে প্রথম হন আজহার উদ্দিন আর্জু। দ্বিতীয় সাদিয়া আমরিন। তৃতীয় এবং শ্রেষ্ঠ বক্তা হন সানজিদা ইয়াসমিন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনদিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক আহসান হাবিব পারভেজ ও শিরীনা খাতুন।
Print
1680 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close