যে কারণে হচ্ছে না জেলা পরিষদ নির্বাচন

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০০০ সালে গঠন করা হয়েছিল জেলা পরিষদ। কিন্তু ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও স্থানীয় সরকারের এ স্তরের নির্বাচন করা হয়নি। এর কারণ জাতীয় সংসদে ব্যাখা করেছেন সংসদ কার্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলামের (কুড়িগ্রাম-৩) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন না পাওয়া ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা না পাওয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করণীয় নেই।’

তিনি জানান, জেলা পরিষদ আইন-২০০০ এর ১৯ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, পরিষদ প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করবে, সেই তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন নির্বাচন কমিশন পায়নি। তাই নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না। আনিসুল হক বলেন, জেলা পরিষদ আইনের ২০ ধারার (২) উপ-ধারা অনুসারে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্বাচনের জন্য বিধি প্রণয়ন করবে বলে বলা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিধিমালা এখনো নির্বাচন কমিশনে আসেনি।

এদিকে, ২০০০ সালে জেলা পরিষদ কাগজে কলমে গঠন হলেও সরকার ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৬১টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জেলা পরিষদ আইন বলবৎ করেছে। অথচ প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রথমবার পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেনি এখনও। দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) (সংশোধনী) বিল ২০১৫ জাতীয় সংসদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। এর ফলে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের অনীহা প্রকাশ্যে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিলে তার সঙ্গে এলাকার সংসদ সদস্যদের দ্বন্দ তৈরি হবে- এ আশংকা থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ওই বিল প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুপারিশ করে।

Print
728 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close